পাঁচ দিন ধরে সাইবার হানা? রাজ্যের ডেটা সেন্টার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, সরকারি নথি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন

রাজ্যের ডেটা সেন্টার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ! পশ্চিমবঙ্গের সরকারি তথ্যভান্ডার ঘিরে তৈরি হয়েছে সাইবার নিরাপত্তার উদ্বেগ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের একাধিক সরকারি দফতরের ওয়েবসাইট এবং অনলাইন পরিষেবায় সমস্যা দেখা দিয়েছে।…

September 22, 2026
1 min read

রাজ্যের ডেটা সেন্টার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ!

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি তথ্যভান্ডার ঘিরে তৈরি হয়েছে সাইবার নিরাপত্তার উদ্বেগ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের একাধিক সরকারি দফতরের ওয়েবসাইট এবং অনলাইন পরিষেবায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধিকরণ থেকে শুরু করে কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন অনলাইন পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে এর পিছনে রাজ্যের ডেটা সেন্টারে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা থাকার কথা বলা হয়েছে।

এরই মধ্যে সরকারি সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ স্টেট ডেটা সেন্টারে ৯ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার হানার ঘটনা ঘটেছে। হামলার জেরে বিভিন্ন সরকারি দফতরের গুরুত্বপূর্ণ নথি ক্ষতিগ্রস্ত বা হাতছাড়া হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে কোন কোন তথ্য চুরি হয়েছে বা স্থায়ী ভাবে নষ্ট হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারের তরফে এখনও কোনও বিস্তারিত সরকারি ঘোষণা সামনে আসেনি।

পাঁচ দিন ধরে কী ভাবে চলল হামলা?

সূত্রের দাবি, ৯ সেপ্টেম্বর প্রথম সাইবার আক্রমণ শুরু হলেও ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরের আগে তা শনাক্ত করা যায়নি। পরে ফরেনসিক তদন্তে একাধিক সন্দেহজনক ম্যালওয়্যার স্ক্রিপ্টের উপস্থিতির সন্ধান মেলে বলে জানা গিয়েছে। এই ধরনের ক্ষতিকর কোড কোনও কম্পিউটার সিস্টেমে ঢুকে তথ্য চুরি, নষ্ট করা বা সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

তদন্তে একাধিক ভার্চুয়াল মেশিন সক্রিয় থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। এর ফলে তথ্যভান্ডারের বিস্তীর্ণ অংশে অননুমোদিত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কোন তথ্য ঝুঁকিতে?

সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে যে আশঙ্কার কথা সামনে এসেছে, তার মধ্যে অর্থ দফতর-সহ একাধিক সরকারি বিভাগের নথির উল্লেখ রয়েছে। সরকারি প্রকল্প, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধিকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং বিভিন্ন আর্থিক নথি নিয়ে তদন্তকারীরা খোঁজখবর করছেন বলে দাবি।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে এসেছে—অর্থ দফতরের অভ্যন্তরীণ মূল সিস্টেম সরাসরি আক্রান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি। ফলে আগের সরকারের আর্থিক লেনদেনের সব নথি লোপাট হয়ে গিয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছনোর মতো নিশ্চিত তথ্য নেই।

চলতি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্যও নিরাপদ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি পরিষেবার জন্য ব্যবহৃত নাগরিকদের তথ্য কোনও ভাবে অননুমোদিত হাতে পৌঁছেছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রশ্ন উঠছে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, হামলা যদি সত্যিই ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে থাকে, তা হলে সেটি শনাক্ত করতে কয়েক দিন সময় লাগল কেন? সরকারি তথ্যভান্ডারে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম থাকার পরেও হামলা দীর্ঘ সময় অচিহ্নিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনার মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের জন্যও উদ্বেগের জায়গা রয়েছে। সরকারি ডেটাবেসে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য যদি কোনও সাইবার অপরাধী গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছে থাকে, তা হলে ভবিষ্যতে পরিচয় চুরি বা প্রতারণার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকদের তথ্য ব্যাপক ভাবে চুরি হয়েছে—এমন কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

রাজ্য সরকারের তরফে এই সাইবার হামলা, তথ্য চুরি বা তথ্য স্থায়ী ভাবে নষ্ট হওয়ার অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টির বেশির ভাগ দাবিই তদন্তাধীন বলেই ধরা হচ্ছে। এখন মূল নজর, আক্রান্ত সার্ভারগুলি কতটা পুনরুদ্ধার করা যায় এবং কোনও তথ্য সত্যিই চুরি বা নষ্ট হয়েছে কি না, সেই তদন্তের ফলের দিকে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *