মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৎপর স্বাস্থ্য ভবন!
ডেঙ্গির মরসুম শুরু হতেই রাজ্যে নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্য দফতর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পরিস্থিতি পর্যালোচনার এক দিনের মধ্যেই বুধবার নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্য ভবন। শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্র বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরের রোগীর খোঁজ নেওয়া, উপসর্গ থাকলে দ্রুত রক্তপরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে পাঠানোর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আশাকর্মীদের নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সন্ধান করতে হবে। কারও ৪৮ ঘণ্টার বেশি জ্বর থাকলে বিষয়টি দ্রুত এএনএম বা মেডিক্যাল অফিসারের নজরে আনতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা ডেঙ্গি পরীক্ষার পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি, জ্বরের রোগীদের ম্যালেরিয়া পরীক্ষাও করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিনামূল্যে ডেঙ্গি পরীক্ষা
প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে এলিসা পরীক্ষার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। সরকারি পরিকাঠামোয় পরীক্ষা সম্ভব না হলে প্রয়োজনে বেসরকারি ল্যাবের সাহায্য নেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে বিনামূল্যে বা কম খরচে পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্যও নেওয়া যেতে পারে।
ডেঙ্গির উপসর্গ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের রক্তপরীক্ষা করানোর বিষয়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতেও প্রচার চলবে।
প্রতিদিন কত জন জ্বরে আক্রান্তের খোঁজ মিলল এবং তাঁদের মধ্যে কত জনের ডেঙ্গি পরীক্ষা করানো হল, সেই হিসাব স্বাস্থ্য ভবনে পাঠাতে হবে। কোনও এলাকায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সন্ধান মিললে সেখানে বিশেষ সাফাই অভিযান চালানোর পাশাপাশি মশার লার্ভার উৎসস্থল খুঁজে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।
বাড়বে ফিভার ক্যাম্প
কোনও এলাকায় জ্বরের প্রকোপ বাড়লে সেখানে ‘ফিভার ক্যাম্প’ চালু করা হবে। জেলা, ব্লক এবং পুরসভা স্তরে জ্বরের ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করে এই শিবির আয়োজন করা হবে। সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে শিবির। সেখানে মেডিক্যাল অফিসার, নার্স এবং মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
ডেঙ্গি আক্রান্তদের রক্তপরীক্ষার রিপোর্টেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। সিবিসি ও পিসিভি-র পাশাপাশি প্লেটলেটের মাত্রা উল্লেখ করতে হবে। প্লেটলেট ৫০ হাজারের নীচে নামলে স্লাইড মেথডে রিপোর্ট নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোগীর হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন হলে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে।
এর আগে মঙ্গলবার ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গত বছর এই সময় পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৬০০-র বেশি ছিল। এ বার তা প্রায় ৪,০০০। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নভেম্বর পর্যন্ত নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে সামান্য জ্বরকেও যাতে অবহেলা না করা হয় এবং প্রয়োজনমতো বিনামূল্যে পরীক্ষার সুযোগ মেলে, তা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।