মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন!
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ যখন ক্রমশ উত্তপ্ত, ঠিক তখনই নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর একটি বক্তব্যকে ঘিরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পরোক্ষে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে এবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
অভিযোগের সূত্রপাত ২৫ মার্চ, দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়িতে এক জনসভা থেকে। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভোটকেন্দ্র পাহারার দায়িত্ব দেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের। অভিযোগ, তিনি ইঙ্গিত দেন—কেউ ভয় দেখাতে এলে গৃহস্থালির জিনিসপত্র দিয়েই প্রতিরোধ গড়ে তোলা যেতে পারে। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এমন বক্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট বুঝতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি বিশেষভাবে ‘মা-বোনেদের’ ভোটের দিন সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান। সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া এবং ইভিএম নিরাপদে গণনা কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত নজরদারি রাখতে বলেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ভোটে কারচুপি বা ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা হতে পারে। সেই কারণেই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।
তবে এই মন্তব্যই এখন বিরোধীদের নিশানায়। তাঁদের দাবি, এ ধরনের বক্তব্য গ্রামীণ এলাকায় অশান্তি উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে, যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে তা আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, শাসকদলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কেবল ভোটারদের সচেতন থাকতে বলেছেন। কোনও রকম হিংসার উসকানি দেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং ভোট যাতে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে হয়, সে জন্যই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ভোট পরিচালনা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা, এবং সম্ভাব্য কারচুপি—এই সব ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আরও এক দফা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন সকলের নজর নির্বাচন কমিশনের রিপোর্টের উপর—সেখানে কী উঠে আসে, আর তার ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেয় কমিশন, সেটাই দেখার।