এসআইআর নিয়ে তিন কমিশনারের ‘ঐক্যের ছবি’!
এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের অভিযোগ ঘিরে যখন রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, তখনই শনিবার তিন নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকের ছবি প্রকাশ্যে এল। সেই ছবি সামনে রেখে রবিবার বিরোধীদের নিশানা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কোনও এক জনের একক সিদ্ধান্তে হয়নি; তিন কমিশনারের সম্মতিতেই তা হয়েছে।
শনিবার নির্বাচন সদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশীর বৈঠক হয়। পরে কমিশন জানায়, এসআইআর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি তিন কমিশনারের সর্বসম্মত অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৪ জুন দেশজুড়ে এসআইআর শুরু করার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী পর্যায়ের সময়সূচিও সর্বসম্মত ভাবে অনুমোদিত হয়েছিল বলে কমিশনের বক্তব্য।
এই বক্তব্যের আগে অবশ্য ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত ১০ মাসে সান্ধু ও জোশী অন্তত ১৪ বার এসআইআর-সহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আপত্তির মধ্যে ছিল নতুন ভোটারদের ফর্মে পরিবর্তন, ভোটার ডেটাবেসে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পদ্ধতি। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, দু’জন কমিশনারের আপত্তির কিছু অংশ সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
কমিশন অবশ্য শনিবারের বিবৃতিতে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের সেই ব্যাখ্যা মানেনি। তাদের বক্তব্য, এসআইআর-এর মূল সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ছিল। একই সঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, ইসিআইনেট পোর্টাল নিয়ে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হবে এবং ভবিষ্যতে নতুন আইটি মডিউল বা পোর্টাল চালুর আগে কমিশনের অনুমোদন নেওয়া হবে। বৈঠকের এজেন্ডা আগেই কমিশনারদের মধ্যে পাঠানো এবং বৈঠকের মিনিটস তৈরি করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, তিন কমিশনারের একসঙ্গে বসার ছবিই প্রমাণ করে যে এসআইআর কোনও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না। তাঁর বক্তব্য, একটি সংবাদপ্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল এবং সিপিএমের সম্পর্ক নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, অতীতে পরস্পরের বিরুদ্ধে রাজনীতি করা দুই দল এখন বিধানসভা থেকে শুরু করে এসআইআর ইস্যুতেও একই অবস্থান নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি বিলের ভোটাভুটির প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই দাবির পক্ষে উদাহরণ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশে ভোটার তালিকার তথ্যগত অসঙ্গতি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা যুক্ত হন এবং পরে বহু নাম বাদ পড়ে। তবে এসআইআর নিয়ে এই গোটা প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে এখনও তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে।
শনিবারের বৈঠকের পর কমিশন অবশ্য বাদ পড়া বা নতুন ভোটারদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করার কথাও জানিয়েছে। ‘আনম্যাপড’ বা তথ্যগত অসঙ্গতিতে নোটিস পাওয়া ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে বুথ স্তরের আধিকারিকেরা নথি সংগ্রহ করবেন। সাধারণ পরিস্থিতিতে তাঁদের আলাদা করে শুনানিতে হাজির হতে হবে না; প্রয়োজন হলে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে শুনানি হতে পারে।
অর্থাৎ, এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আপাতত থামেনি। এক দিকে কমিশনের ‘সর্বসম্মতির’ দাবি, অন্য দিকে দুই কমিশনারের পূর্ববর্তী লিখিত আপত্তির নথি—দুইয়ের মাঝেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।