যাদবপুরে প্রতীক ভাঙা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ!
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত। শিক্ষক ও পড়ুয়াদের দাবির পর শুক্রবার যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডল জানিয়েছেন, উপাচার্যের নির্দেশেই তদন্ত কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, কমিটিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কোনও প্রতিনিধি থাকবেন না। সম্ভাব্য সদস্যদের মধ্যে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং আইকিউএসি-র আধিকারিকদের পাশাপাশি কোনও প্রাক্তন উপাচার্যও থাকতে পারেন।
কী অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের?
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০ অগস্ট রাত প্রায় ১২টা ৩৭ মিনিটে এক দল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বা বহিরাগত বেআইনি ভাবে ক্যাম্পাসে ঢোকে। অরবিন্দ ভবনের গাড়িবারান্দায় পতাকা, পোস্টার-সহ বিভিন্ন সামগ্রীতে আগুন ধরানো হয়। জ্বলন্ত সামগ্রী ভবনের ভিতরেও ছুড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া ১ নম্বর গেটের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর, পড়ুয়াদের হুমকি এবং হস্টেলের দরজা জোর করে খোলার চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
প্রতীক ভাঙা নিয়ে নতুন বিতর্ক
২০ অগস্ট দুপুরের পরেও ক্যাম্পাসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম বা প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
অভিযোগ, যাদবপুরের ৪ নম্বর গেট দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করার সময় এবিভিপি সমর্থকেরা ওই প্রতীকের উপর পা দিয়ে ওঠেন। সেই সময় প্রতীকের একটি অংশ ভেঙে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এবিভিপি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনের পাল্টা দাবি, অতিবাম বা নকশালপন্থীদের পরিকল্পনাতেই প্রতীকটি ভাঙা হয়েছে। তারা বাংলা বিভাগের শিক্ষক রাজ্যেশ্বর সিংহের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে।
রাজ্যেশ্বর সিংহ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই আসল ঘটনা স্পষ্ট হবে।
কর্মবিরতিতে শিক্ষক সমিতি
অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুর ২টো থেকে ৪টে পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। অরবিন্দ ভবনের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভও চলছে।
এখন তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এবং পুলিশের হাতে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজই গোটা ঘটনার প্রকৃত ছবি স্পষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেও নজর থাকবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।