যাদবপুরে শান্তি ফেরানোর বার্তা, কিন্তু অনড় পড়ুয়ারা: তদন্ত কমিটি ঘিরে বাড়ছে টানাপড়েন

যাদবপুরে শান্তি ফেরানোর বার্তা! প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তি ফেরানোর আবেদন জানালেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি পড়ুয়া, শিক্ষক, গবেষক-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান…

August 25, 2026
1 min read

যাদবপুরে শান্তি ফেরানোর বার্তা!

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তি ফেরানোর আবেদন জানালেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি পড়ুয়া, শিক্ষক, গবেষক-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, যাদবপুর দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কোনও অশান্তির কারণে তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।

গত ১৯ অগস্ট গভীর রাতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়ানোর পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। এবিভিপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ যেমন উঠেছে, তেমনই বহিরাগতদের তাণ্ডবে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও। ঘটনার সময় প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য তথা গণিতের অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউয়ের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়াদের একাংশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজের ভিত্তিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

এ দিকে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকও কার্যত ফলপ্রসূ হয়নি। দক্ষিণপন্থী ছাত্র ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের একাংশ বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর বামপন্থী পড়ুয়াদের সঙ্গেও আলোচনা চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছয়নি। বৈঠক শেষে বেরোনোর সময় উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য পড়ে গিয়ে হাঁটুতে চোট পান বলেও জানা গিয়েছে।

তদন্ত নিয়ে পড়ুয়াদের আপত্তি

পড়ুয়াদের অন্যতম দাবি, তদন্ত কমিটিতে ছাত্র প্রতিনিধিদের রাখা হোক। এসএফআই-এর তরফে অঞ্জিল দাসের দাবি, অন্তত পর্যবেক্ষক হিসাবে ছাত্রদের উপস্থিতির সুযোগ দেওয়া দরকার। তাঁদের বক্তব্য, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণ যাতে কোনও ভাবে বিকৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই দাবি।

আগামী ২৭ অগস্ট তদন্ত কমিটির প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে পড়ুয়ারা নিজেদের দাবি ও বক্তব্য জানাতে পারবেন। তবে কমিটিতে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি কর্তৃপক্ষ এখনও মেনে নেয়নি।

বুদ্ধদেব সাউকে প্রশাসনিক পদ থেকে সরানোর দাবিও তুলেছেন পড়ুয়ারা। তদন্ত চলাকালীন তাঁকে কোনও প্রশাসনিক দায়িত্ব এমনকি ক্লাস থেকেও বিরত রাখার দাবি জানানো হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ সরাসরি সেই দাবি না মেনে ‘স্টুডেন্টস গ্রিভান্স রিড্রেসাল সেল’ ভেঙে দিয়েছে।

পুলিশও ক্যাম্পাসে

মঙ্গলবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় পুলিশ। রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডলের সঙ্গে পুলিশের কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সোমবার রাতেই সিসি ক্যামেরার কিছু ফুটেজ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আরও ফুটেজও চাওয়া হয়েছে বলে খবর।

অন্য দিকে, যাঁদের ঘটনার সময় ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন তাঁদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়েও আপত্তি রয়েছে পড়ুয়াদের। তাঁদের বক্তব্য, তদন্তের প্রয়োজনে ডাকা হলে তবেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসুন।

সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর শান্তির বার্তার মধ্যেও যাদবপুরে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শান্তি ফেরানো, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ছাত্রদের দাবিদাওয়া—এই তিনটি বিষয়েই এখন কর্তৃপক্ষ ও পড়ুয়াদের মধ্যে সমঝোতা কতটা হয়, সেটিই নজরে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *