যাদবপুরে সিসিটিভি-ফুটেজ ঘিরে নতুন বিতর্ক, বুদ্ধদেব সাউয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের দাবি পড়ুয়াদের

যাদবপুরে সিসিটিভি-ফুটেজ ঘিরে নতুন বিতর্ক! যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২০ অগস্টের রাতের হামলার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হল। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে গণিতের অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউকে দেখা যাওয়ার…

August 24, 2026
1 min read

যাদবপুরে সিসিটিভি-ফুটেজ ঘিরে নতুন বিতর্ক!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২০ অগস্টের রাতের হামলার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হল। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে গণিতের অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউকে দেখা যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়নি কেন, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে সেই প্রশ্ন তুললেন পড়ুয়াদের একাংশ।

স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে পড়ুয়ারা জানান, ওই রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং ছাত্রাবাসে বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আটকাতে কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, ৪ নম্বর গেটের কাছে বুদ্ধদেব সাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে এবং কয়েক জন এবিভিপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছিল। সেই ফুটেজের ভিত্তিতে হামলায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি থাকে, তা হলে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে তদন্তের সুযোগ দেওয়া উচিত।

এ দিন যাদবপুর থানার পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে আসে। এর আগে গত শনিবার বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে হামলার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তবে বুদ্ধদেব সাউ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার রাতে উত্তেজনার খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনে থাকার কারণে খবর পাওয়ার পর তিনিই দ্রুত সেখানে পৌঁছন বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন।

অন্য দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডলের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বুদ্ধদেব। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তথ্য বাইরে পাচার হয়েছে এবং এর পিছনে রেজিস্ট্রারের ভূমিকা রয়েছে। তথ্যপাচারের অভিযোগে রেজিস্ট্রারকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

পুলিশ ফাঁড়ি নিয়ে মতবিরোধ

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে দক্ষিণপন্থী শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘও সরব হয়েছে। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে ১৯ অগস্টের সাধারণ সভার আয়োজকদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে যাওয়ার আগেই কী ভাবে তা সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছল, সেই প্রশ্নও তুলেছে তারা। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

তবে বাম কর্মী সংগঠন ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সংসদ’ ক্যাম্পাসের ভিতরে পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির বিরোধিতা করেছে। তাদের বক্তব্য, পুলিশ আউটপোস্ট প্রয়োজন হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌহদ্দির বাইরে করা উচিত।

এনআইএ তদন্তের দাবি এবিভিপির

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক ভাঙচুর এবং ক্যাম্পাসে থাকা কিছু পোস্টার নিয়েও তদন্তের দাবি তুলেছে এবিভিপি। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করানোর দাবি জানানো হবে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ দিকে, যাদবপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনও। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানোর প্রক্রিয়ায় কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। এবিভিপি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে গিয়েছে এবং তারা পরিস্থিতি সামলাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সব মিলিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ, বহিরাগতদের প্রবেশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে ঘিরে যাদবপুরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এখন পুলিশের তদন্তে ফুটেজে ধরা পড়া ঘটনাগুলির কী ব্যাখ্যা উঠে আসে, সেদিকেই নজর।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *