ইরান-যুদ্ধে পাশে পাননি দক্ষিণ কোরিয়াকে, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প!
ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে আমেরিকার পাশে দক্ষিণ কোরিয়া না দাঁড়ানোয় ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ক্ষোভের প্রভাব পড়তে চলেছে ওয়াশিংটন-সোলের সামরিক সহযোগিতাতেও। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের ‘খুব ভাল সম্পর্কের’ কথাও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়াগুলি শুধু ব্যয়বহুল নয়, এর বড় অংশের খরচ আমেরিকাকেই বহন করতে হয়। তাঁর আরও দাবি, এই ধরনের মহড়া শত্রুতার বার্তাও দেয়। ট্রাম্পের বক্তব্যে উত্তর কোরিয়ার দিকেই ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পেন্টাগনকে ওয়াশিংটন-সোলের সামরিক সখ্য কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন সোমবার থেকেই আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু হয়েছে। ২৭ অগস্ট পর্যন্ত এই মহড়া চলার কথা।
কেন ক্ষুব্ধ ট্রাম্প?
ট্রাম্পের দাবি, সম্প্রতি ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের উদ্যোগে আমেরিকার সঙ্গে যোগ দিতে রাজি হয়নি দক্ষিণ কোরিয়া। তার পরেই যৌথ সামরিক মহড়ার প্রয়োজনীয়তা ও খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ওয়াশিংটনের সামরিক ব্যয়ের বড় অংশ আমেরিকাকেই বহন করতে হয় বলেও অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে সোলের অবস্থান আপাতত আলাদা। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি মেনেই আমেরিকার সঙ্গে সামরিক মহড়া চলবে। ট্রাম্পের মন্তব্য পর্যালোচনা করার কথাও জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি, কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় কাজে আসবে এবং কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে সাহায্য করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সোল।
কিমের সঙ্গে ‘ভাল সম্পর্ক’, সীমান্তে উত্তেজনা
ট্রাম্প যখন কিমের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরছেন, তখনই কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনার খবর সামনে এসেছে। রবিবার রাতে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে গোলাগুলির খবর পাওয়া যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপের দাবি, উত্তর কোরিয়ার সেনারা সীমান্ত লঙ্ঘন করেছিল।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই নানা প্রশ্ন উঠছে। এক দিকে সোলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা কমানোর বার্তা, অন্য দিকে কিমের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দাবি—দুটি ঘটনাই নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে উত্তর কোরিয়ার তরফে ট্রাম্পের এই মন্তব্য বা সামরিক মহড়া নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয় এবং তার প্রভাব দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতায় কতটা পড়ে, এখন সেটাই নজরে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।