মোদীকে বললেন ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট স্মিত!
মাঝআকাশে ভয়াবহ হামলার পরও বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করিয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে শুক্রবার ভিডিয়ো কলে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন স্মিতের মাথায় তখনও ব্যান্ডেজ, নাকে অক্সিজেনের নল। কথোপকথনের সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।
মোদীর সঙ্গে কথা বলার সময় স্মিত জানান, বিপদের মুহূর্তে তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করছিলেন। তাঁর কথায়, যখনই তিনি ব্যথা বা বিপদের মধ্যে পড়েন, তখন হনুমান চালিশা পাঠ করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজ়েড ১০৭৩ বিমানেও ভয়াবহ হামলার সময় তিনি একই কাজ করেছিলেন।
এর পর প্রধানমন্ত্রীকে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথাও জানান স্মিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৭ বছর ধরে তিনি বিমান চালাচ্ছেন এবং ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেনের দায়িত্বে রয়েছেন। হামলার পর তিনি বুঝেছিলেন, যাত্রীদের বাঁচাতে তাঁকে শেষ চেষ্টা করতেই হবে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও কোনও ভাবে ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি। এর ফলে অন্যরা ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ পান।
মোদী স্মিতের সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি এবং ধৈর্যের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্মিত নিজের জীবনের কথা না ভেবে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর সাহসের জন্য গোটা দেশ গর্বিত বলেও জানান মোদী।
মোদীর সঙ্গে কথোপকথনের এক পর্যায়ে স্মিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। এত কঠিন পরিস্থিতির পর তাঁকে ফোন করে উৎসাহ দেওয়ায় কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। নিজের যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে স্মিত বলেন, সেই সময় নিজেকে উঠে দাঁড়িয়ে কিছু করার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজ়েড ১০৭৩ বিমানে। দুবাই থেকে তেল আভিভ যাওয়ার পথে ককপিটে স্মিতকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করেন তাঁর সহ-পাইলট। ইজ়রায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানটিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েও স্মিত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। পরে যাত্রী ও অন্য ক্রু সদস্যরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিমানটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির কর্তৃপক্ষ। হামলার উদ্দেশ্য এবং সহ-পাইলটের আচরণের পিছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন।
স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন একাধিক দেশের নেতা। গুরুতর আহত এই ভারতীয় পাইলটকে পরে আরও চিকিৎসার জন্য আবু ধাবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশজুড়ে প্রার্থনাও চলছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।