১০ বছরে ১৫২টি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে মোদী সরকারকে নিশানা রাহুল!
দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গত ১০ বছরের শাসনকালে কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যে মোট ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে প্রায় সাড়ে সাত কোটি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হয়নি।
বুধবার নয়াদিল্লির ৯এ, কোটলা মার্গে কংগ্রেসের সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে রাহুল অভিযোগ করেন, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা এখন এমন এক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যেখানে কারচুপি এবং অনিয়মই যেন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর কথায়, “দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণভাবে রিগড। এর খেসারত দিতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবারকে।”
সাম্প্রতিক নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপই ছিল সাংবাদিক বৈঠকের মূল বিষয়। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, যন্তর মন্তরের আন্দোলন এবং সংসদ অভিযানের অন্যতম আয়োজক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নাম একবারও উচ্চারণ করেননি রাহুল।
একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে কংগ্রেসের তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন তিনি। সেগুলি হল— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপর পুলিশি হামলার দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং এই ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।
রাহুলের অভিযোগ, নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নেমেছিলেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের উপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারকে তিনি “অগণতান্ত্রিক এবং অ-ভারতীয়” বলে মন্তব্য করেন।
আরএসএসকেও নিশানা করে রাহুল বলেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর দাবি, মোদী সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিত ভাবে দুর্বল করে দিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিরোধী দলগুলির ধর্না থেকে তাঁকে আটক করার প্রসঙ্গও তুলে আনেন রাহুল। সেই ঘটনার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শোনাতে গিয়ে তিনি বলেন, “যখন দিল্লি পুলিশ আমাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন এক পুলিশকর্মী আমার কানে কানে বলেছিলেন— ‘এই সরকারের পতন ঘটান।’”
সেদিনের ধস্তাধস্তিতে তাঁর নাকে চোট লাগে এবং রক্তপাতের ঘটনাও সামনে আসে। তবে সেই প্রসঙ্গে রাহুলের বক্তব্য, নিজের আঘাত নয়, তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দেশের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে আরও খারাপ ব্যবহার হলেও আপত্তি নেই। কিন্তু পড়ুয়াদের উপর অত্যাচার বন্ধ হওয়া উচিত।”
শেষে রাহুল দাবি করেন, শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিণত করা হচ্ছে বলেই প্রশ্নফাঁসের মতো দুর্নীতি বারবার সামনে আসছে। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি সংসদ থেকে রাজপথ— সর্বত্র শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?