মোদীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় রাহুল
দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভে পুলিশি লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের অদূরে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা এবং দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।
বিক্ষোভ চলাকালীন ঘটনাস্থলে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। তিনি কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকা ওই এলাকা থেকে ধর্না প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। যদিও কংগ্রেস নেতারা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকেন।
ধর্নায় কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের নেতারাও যোগ দেন। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন এবং কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমারও আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেসের দাবি, ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী এবং কেন্দ্রকে এর জবাব দিতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, ছাত্রদের উপর পুলিশি অভিযানের দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনা, সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি এবং নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে চলতি বাদল অধিবেশনে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা।
প্রসঙ্গত, সোমবার মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ছাত্র সংগঠন সিজেপি-র ডাকা ‘সংসদ অভিযান’ ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ব্যারিকেড, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলেও বহু বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যান। নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু সময়ের জন্য সংসদের প্রধান প্রবেশদ্বারও বন্ধ রাখা হয়।
ছাত্র সংগঠন সিজেপি-র অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতেই পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। সংগঠনের দাবি, গত এক মাস ধরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চললেও কেন্দ্র প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। তবে আন্দোলনে জনসমর্থন বাড়তে থাকায় এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির সমর্থন পাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডাকে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জেপি নড্ডা ইতিমধ্যেই সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করেছেন বলে জানা গিয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবিগুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। যদিও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ মূল দাবিগুলি এখনও মেনে নেওয়া হয়নি। ফলে আন্দোলন কোন দিকে গড়ায় এবং সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও শিক্ষার্থীদের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?