১০ জনের ইংল্যান্ডের রুদ্ধশ্বাস জয়! মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে কেনেরা!
বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচের সাক্ষী থাকল মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজ়তেকা স্টেডিয়াম। পাঁচ গোল, দুই পেনাল্টি, একটি লাল কার্ড এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা— সব মিলিয়ে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে আয়োজক দেশ মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল ইংল্যান্ড। এক জন কম নিয়ে দীর্ঘ সময় খেলেও অসাধারণ লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নিল টমাস টুখেলের দল।
ম্যাচের আগে পরিসংখ্যান ইংল্যান্ডের পক্ষে ছিল না। মেক্সিকোর মাটিতে তারা আগে কখনও স্বাগতিকদের হারাতে পারেনি। তার উপর আজ়তেকার উচ্চতা, গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের চাপ এবং অতীতের তিক্ত স্মৃতি— সবই ছিল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। কিন্তু মাঠে নেমে সেই সব হিসাব বদলে দিলেন জুড বেলিংহ্যাম।
শুরুর আধ ঘণ্টা মেক্সিকোই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল। একাধিক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে চাপে ফেলে তারা। তবে গোলরক্ষক জর্ডন পিকফোর্ডের দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ ইংল্যান্ডকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। এরপর ম্যাচের গতি পাল্টে যায় ৩৬ মিনিটে। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বুকায়ো সাকার নিখুঁত ক্রসে হেডে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন বেলিংহ্যাম।
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলানোর আগেই আরও বড় আঘাত পায় মেক্সিকো। মাত্র ৯৮ সেকেন্ড পরে অ্যান্থনি গর্ডনের দারুণ উদ্যোগ এবং হ্যারি কেনের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন বেলিংহ্যাম। মুহূর্তের মধ্যেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
তবে মেক্সিকো সহজে হার মানেনি। বিরতির ঠিক আগে ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে জুলিয়ান কিনোনেস ব্যবধান কমান। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে। ৫৪ মিনিটে ভিএআর দেখে ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে প্রায় ৩৫ মিনিট ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় ইংল্যান্ডকে।
সংখ্যায় পিছিয়ে পড়লেও আত্মবিশ্বাস হারায়নি ইংল্যান্ড। রক্ষণ শক্ত করে প্রতি আক্রমণের অপেক্ষায় ছিল তারা। সেই কৌশলই কাজে দেয়। গর্ডনকে বক্সের মধ্যে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট কিক থেকে নির্ভুল শটে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর ষষ্ঠ গোল, সোনার বুটের লড়াইয়েও তিনি আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেলেন।
ম্যাচে নাটকের শেষ অঙ্কও বাকি ছিল। কিছুক্ষণ পর বক্সের মধ্যে ফাউল করে বসেন কেন নিজেই। ভিএআরের সাহায্যে মেক্সিকোর পক্ষেও পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। রাউল হিমেনেজ় গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি স্বাগতিকরা।
এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। শেষ আটে তাদের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। প্রতিপক্ষ নরওয়ে, যারা একই দিনে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজ়িলকে বিদায় করে চমক দেখিয়েছে। তবে আজ়তেকার কঠিন পরীক্ষায় যেভাবে ইংল্যান্ড নিজেদের প্রমাণ করল, তাতে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই উঠে এল কেন-বেলিংহ্যামদের দল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?