২১ জুলাইয়ের আগেই তৃণমূলের ‘আসল’ দাবিদার কারা? সুদীপদের ইঙ্গিতে ফের জোরালো প্রতীক-রাজনীতির বিতর্ক

২১ জুলাইয়ের আগেই তৃণমূলের ‘আসল’ দাবিদার কারা? লোকসভার বাদল অধিবেশন শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। তবে তার আগেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ…

June 16, 2026
1 min read

২১ জুলাইয়ের আগেই তৃণমূলের ‘আসল’ দাবিদার কারা?

লোকসভার বাদল অধিবেশন শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। তবে তার আগেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ এবং দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’-এর ভাগ্য। তৃণমূলের একাংশের বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি ঘিরে নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ জানান, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হলে তাঁরাও নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি তুলতে পারেন। তাঁর কথায়, সংসদে যদি দু’টি পক্ষই নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করে, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্ন সামনে আসবে। সেই পরিস্থিতিতে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

সুদীপের বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ‘জোড়াফুল’ কি ভবিষ্যতে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে যেতে পারে? এমনকি প্রতীক সাময়িক ভাবে স্থগিত বা বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কি তৈরি হতে পারে?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতীক বা সাংগঠনিক অধিকার নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে আদালত এবং নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন আইনি ও সাংবিধানিক দিক খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়। তাই আগে থেকেই কোনও চূড়ান্ত সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন।

কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বিষয়টি আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি সদস্য অন্য দলে যোগ দিলে দলত্যাগবিরোধী আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয় না। তবে সেই পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়— দলের প্রকৃত সাংগঠনিক ও পরিষদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কার হাতে রয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের সাধারণত দু’টি স্তম্ভ থাকে— একদিকে সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে গঠিত পরিষদীয় অংশ, অন্যদিকে সংগঠনিক কাঠামো। যদি কোনও পক্ষ দাবি করে যে তারাই দলের প্রকৃত উত্তরাধিকারী এবং প্রতীক বা দলীয় তহবিলের উপর অধিকার চায়, তবে নির্বাচন কমিশন সেই দাবি যাচাই করতে পারে।

এই যাচাই প্রক্রিয়া চলাকালীন কমিশন চাইলে দুই পক্ষকে পৃথক প্রতীক ব্যবহার করার অনুমতিও দিতে পারে। অতীতে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা এবং এনসিপি-র ক্ষেত্রে এমন ধরনের প্রতীক-সংক্রান্ত বিরোধ দেশ দেখেছে। সেখানে শেষ পর্যন্ত মূল প্রতীক এক পক্ষের হাত থেকে অন্য পক্ষের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদীপ নিজেই স্পষ্ট করেছেন যে তাঁরা এখনই নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি নিয়ে যাচ্ছেন না। আপাতত তাঁরা এনসিপিআই-এর সঙ্গেই থাকছেন এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নেওয়া হবে।

অন্যদিকে তৃণমূলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সুদীপের মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি কটাক্ষের সুরে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিশেষ মন্তব্য করতে চান না।

ফলে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি আইনি এবং সাংগঠনিক লড়াইও যে আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে, তা স্পষ্ট। এখন নজর ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনের দিকে। সেখানেই হয়তো পরিষ্কার হবে, এই বিরোধ কেবল রাজনৈতিক চাপানউতোরে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তা সত্যিই প্রতীক-সংক্রান্ত বড় আইনি সংঘাতে রূপ নেবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *