হোপের ১৬২-তে ভারতের চুনকামের স্বপ্ন শেষ!
শাই হোপের ব্যাটে ভেস্তে গেল ভারতের চুনকামের স্বপ্ন। নিউ চণ্ডীগড়ে লোকেশ রাহুলের ১২৯ এবং রোহিত শর্মার ৯২ রানের উপর ভর করে ৩৫১ রান করেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কাছে হেরে গেল ভারত। ১০ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ক্যারিবীয় দল। সিরিজ় অবশ্য ২-১ ব্যবধানে ভারতেরই, কিন্তু শেষ ম্যাচে বেশ কিছু দুর্বলতা প্রকাশ্যে এল।
হোপের অপরাজিত ১৬২ রানই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিল। ভারতের দেওয়া ৩৫২ রানের লক্ষ্য ৪৮.২ ওভারে তুলে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। এক দিনের ক্রিকেটে এর আগে এত বড় রান তাড়া করে কখনও জেতেনি তারা।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। শুরুতেই জেইডেন সিলসের জোড়া আঘাতে চাপে পড়ে যায় দল। পর পর দু’বলে শুভমন গিল ১ এবং বিরাট কোহলি শূন্য রানে ফিরে যান। রোহিতকে তাই শুরু থেকেই নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ক্রিকেট থেকে কিছুটা সরে আসতে হয়।
রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন রোহিত। প্রথম ১০ ওভারে ভারতের রান ছিল মাত্র ২৮। পরে হাত খুলে ৮৫ বলে ৯২ রান করেন রোহিত। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০টি চার এবং তিনটি ছক্কা। শতরানের খুব কাছে গিয়েও কিমো পলের বলে আউট হন তিনি।
রুতুরাজ ৫৭ রান করলেও তাঁর চারটি ক্যাচ পড়ে। এক সময় মনে হচ্ছিল ভারত ২৫০ রানও পেরোতে পারবে না। সেই জায়গা থেকে ইনিংসের হাল ধরেন রাহুল। চলতি সিরিজ়ে প্রথম বার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েই দুরন্ত শতরান করেন তিনি।
নমন ধীর, নীতীশ রেড্ডি এবং অংশুল কম্বোজদের সঙ্গে ছোট ছোট জুটি গড়ে ভারতকে বড় রানের দিকে নিয়ে যান রাহুল। শেষ দিকে একের পর এক বড় শট খেলেন। ৮৭ বলে ১২৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। মারেন ১০টি চার এবং ছ’টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৫১ রান করে ভারত।
জবাবে শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন হোপ। ভারত অবশ্য তাঁকে বড় সুযোগ দিয়েছিল। ২০ রানও করার আগে হোপের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন গুরনুর ব্রার। সেই সুযোগের পর আর পিছনে ফিরে তাকাননি ক্যারিবীয় ব্যাটার।
জন ক্যাম্পবেলকে ১০ রানে ফেরান মহম্মদ সিরাজ। কিন্তু হোপের সঙ্গে ১০৯ রানের জুটি গড়েন আমির জাঙ্গু। তিনি করেন ৬৭ রান। পরে শারফেন রাদারফোর্ড এবং কিমো পলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে লক্ষ্যের কাছে নিয়ে যান হোপ।
শিশির পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় বোলারদের সমস্যা আরও বাড়ে। মাঝের ওভারে নিয়মিত উইকেট তুলতে পারেনি ভারত। হোপ এক প্রান্ত ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বার করে নেন। ১৪৩ বলে ১৬২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
ভারতের বোলিংয়ে আরও একটি সমস্যা চোখে পড়েছে—পঞ্চম বোলারের অভাব। মাঝের ওভারে উইকেট নেওয়ার মতো বিকল্প না থাকায় হোপকে চাপে রাখা যায়নি। হার্দিক পাণ্ড্যের মতো অলরাউন্ডারের অভাবও ফের স্পষ্ট হয়েছে।
সিরিজ় জিতলেও শেষ ম্যাচের হার ভারতীয় দলের জন্য সতর্কবার্তা। ব্যাটিংয়ে রাহুলের মতো কাউকে প্রতি ম্যাচে বিপদ থেকে উদ্ধার করার আশা করা যায় না। বিশ্বকাপের আগে এই ফাঁকগুলি দ্রুত মেরামত করাই এখন গৌতম গম্ভীরের দলের বড় কাজ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।