ইরান চুক্তির পর ‘বন্ধু’ নেতানিয়াহুকেই কটাক্ষ ট্রাম্পের!
ইরানের সঙ্গে শান্তি সমঝোতার প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার তিনি প্রকাশ্যেই ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ‘খুব জটিল মানুষ’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে আশ্চর্যজনক ভাবে প্রশংসা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের।
দীর্ঘ দিন ধরেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। কিন্তু ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার শেষ পর্যায়ে দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ ক্রমশ প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ইরান ইস্যুতে একাধিকবার ফোনালাপের সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল।
ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পর ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহু খুবই জটিল প্রকৃতির মানুষ। সত্যি বলতে, তাঁর আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তা হলে ইজ়রায়েলের অস্তিত্বই বিপদের মুখে পড়ত।”
অন্য দিকে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে চিন ও রাশিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের বক্তব্য, হরমুজ় প্রণালীকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, সেখানে মস্কো ও বেজিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেনি। বিশেষ করে চিনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শি জিনপিং একজন ভদ্র এবং বিচক্ষণ নেতা।” তাঁর মতে, চিন চাইলে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে পারত, কিন্তু তারা সংযম দেখিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই ট্রাম্প চিন সফরে গিয়ে জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেই সফরের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছিল। এবার ইরান চুক্তির পর তাঁর এই প্রশংসা সেই আলোচনাকে আরও উসকে দিল।
যদিও ইরান-আমেরিকা সমঝোতা এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। আগামী শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় প্রাথমিক চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হওয়ার কথা। এরপর আগামী কয়েক মাস ধরে আরও জটিল বিষয়, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলবে।
এই সমঝোতার ফলে হরমুজ় প্রণালী ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। বাস্তবে তা কার্যকর হলে ইরানের অর্থনীতির উপর থেকে বড় চাপ কমতে পারে।
তবে এখনও বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ইজ়রায়েল কি লেবানন এবং অন্যান্য অঞ্চলে সামরিক অভিযান কমাবে? আমেরিকা ও ইরানের ভবিষ্যৎ আলোচনায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি তেল আভিভ? পশ্চিম এশিয়াজুড়ে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির ভূমিকাই বা কী হবে?
চুক্তির ঘোষণা পরিস্থিতিকে কিছুটা শান্ত করলেও, পশ্চিম এশিয়ার ভবিষ্যৎ এখনও অনেকটাই অনিশ্চিত। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে গোটা বিশ্বের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?