ট্রাম্পের জন্মদিন এড়াতেই কি মধ্যরাতের অপেক্ষা?
আমেরিকা এবং ইরানের বহু প্রতীক্ষিত সমঝোতা ঘোষণার সময় নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চুক্তির ঘোষণা রবিবারেই হতে পারত। কিন্তু ইরান নাকি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য জোর দিয়েছিল। কারণ, তারা কোনও ভাবেই চাইছিল না যে এই গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মদিনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে যাক।
১৪ জুন ছিল ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন। এর আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, ওই দিনই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পন্ন হবে। কিন্তু তেহরান শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেয়। ইরানের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রবিবার কোনও চুক্তি হচ্ছে না। যদিও তারা ইঙ্গিত দিয়েছিল, খুব শীঘ্রই একটি সমঝোতায় পৌঁছনো সম্ভব।
অবশেষে ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার ভোররাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রথমে সমাজমাধ্যমে চুক্তির কথা জানান। তার কিছুক্ষণ পরে ট্রাম্পও ঘোষণা করেন। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করে আরও পরে। এই সময় নির্ধারণ নিয়েই তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ইরানের আপত্তি ছিল মূলত প্রতীকী ও কূটনৈতিক কারণে। তারা চাইছিল না, চুক্তির কৃতিত্ব এককভাবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হোক। তাই মধ্যরাত পেরোনোর পর ঘোষণার ওপর জোর দেয় তেহরান। সে সময় ইরানে ইতিমধ্যেই ১৫ জুন শুরু হয়ে গিয়েছিল, যদিও আমেরিকায় তখনও ১৪ জুন চলছিল।
ফলে একটি অভিনব সমাধান বের হয়। ট্রাম্প তাঁর দেশের সময় অনুযায়ী জন্মদিনেই চুক্তির ঘোষণা করতে পারলেন। আবার ইরানও দাবি করতে পারল যে তাদের সময় অনুসারে রবিবার কোনও চুক্তি হয়নি। কূটনৈতিক ভাষায় একে অনেকেই ‘দুই পক্ষের মুখরক্ষা’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন।
তবে এই সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত নয়। আগামী শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর আগামী কয়েক মাস ধরে আরও বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তির রূপরেখা তৈরি হবে।
বর্তমান সমঝোতার মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ, সামরিক সংঘাত কমানো এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা। যদিও হরমুজ় প্রণালী এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সেখানে পাতা মাইন সরানোর কাজ চলবে ধাপে ধাপে।
একই সঙ্গে ইরানের উপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করার ইঙ্গিতও দিয়েছে আমেরিকা। তা কার্যকর হলে ইরানের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে সব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইজ়রায়েলের সামরিক ভূমিকা নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে। চুক্তির ঘোষণার ঠিক আগে লেবাননে ইজ়রায়েলি হামলার ঘটনাও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ফলে আপাতত এটিকে স্থায়ী সমাধান নয়, বরং দীর্ঘ আলোচনার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। মধ্যরাতের সেই কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা দেখিয়ে দিল, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনও কখনও সময়ও হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অস্ত্র।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?