ব্যারকা পরমাণু কেন্দ্রের হামলা কি পশ্চিম এশিয়াকে আরও অগ্নিগর্ভ করবে?
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির Barakah Nuclear Power Plant লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনাকে শুধু একটি নিরাপত্তা ত্রুটি বলে দেখছেন না আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞেরা। তাঁদের মতে, এই হামলা পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন ও বিপজ্জনক মোড় আনতে পারে। কারণ, এটি কোনও সাধারণ সামরিক ঘাঁটি নয়— আমিরশাহির বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ।
আবু ধাবি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ব্যারকা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশটির মোট বিদ্যুতের প্রায় ২৫ শতাংশ সরবরাহ করে। দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পকে আমিরশাহির পরিচ্ছন্ন শক্তি কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও দেখা হয়। তাই এই কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা শুধুমাত্র নিরাপত্তা নয়, অর্থনীতি ও কৌশলগত স্থিতিশীলতার উপরও আঘাত।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনটি ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। দু’টি আকাশেই ধ্বংস করা হলেও একটি কেন্দ্রের বাইরের অংশে থাকা বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আঘাত হানে। বড় ক্ষতি বা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ না ঘটলেও এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ, পরমাণু স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি সব সময় বহুগুণ বেশি।
আমিরশাহি সরাসরি কারও নাম না করলেও ইরান এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির দিকে সন্দেহের আঙুল উঠেছে। অতীতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি এই অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে পাল্টা হামলার পথেও হাঁটতে পারে আবু ধাবি।
বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, কোনও পরমাণু কেন্দ্রে বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা ক্ষতি হলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ‘নিউক্লিয়ার ফলআউট’ বা তেজস্ক্রিয় কণিকা বাতাসের মাধ্যমে বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরান বা উপসাগরীয় অঞ্চলে এমন ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব পাকিস্তান হয়ে ভারত পর্যন্ত পৌঁছনোর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষত বায়ুপ্রবাহের গতিপথের কারণে উত্তর-পশ্চিম ভারত কিংবা দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশ তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞেরা। দীর্ঘমেয়াদে কৃষি, জল, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি চরম পরিস্থিতিতে মানুষকে ঘরের ভিতরে থাকার পরামর্শও দিতে হতে পারে।
এই ঘটনার সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও এখনও স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। পরমাণু কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম মজুত, নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ় প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দু’দেশের মতবিরোধ তীব্র। তার মধ্যেই পরমাণু কেন্দ্রকে ঘিরে হামলার ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যদি পরমাণু অবকাঠামো সরাসরি যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে, তবে তা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকেই বদলে দিতে পারে। আর সেই অভিঘাত থেকে ভারতও সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে না।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা