প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, সহযোগিতার বার্তা! বেজিঙে ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠকে উষ্ণতার ইঙ্গিত

বেজিঙে ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠকে উষ্ণতার ইঙ্গিত! দীর্ঘ দিনের কূটনৈতিক টানাপড়েনের পর অবশেষে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিল আমেরিকা এবং চিন। বেজিঙে মুখোমুখি বৈঠকে বসে দুই দেশের রাষ্ট্রনেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি…

May 14, 2026
1 min read

বেজিঙে ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠকে উষ্ণতার ইঙ্গিত!

দীর্ঘ দিনের কূটনৈতিক টানাপড়েনের পর অবশেষে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিল আমেরিকা এবং চিন। বেজিঙে মুখোমুখি বৈঠকে বসে দুই দেশের রাষ্ট্রনেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং স্পষ্ট বার্তা দিলেন— সংঘাত নয়, বরং সহযোগিতার পথেই এগোতে চায় দুই শক্তিধর দেশ।

বৃহস্পতিবার সকালে চিনের রাজধানী বেজিঙের তিয়েনানমেন স্কোয়ারে অবস্থিত ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ ট্রাম্পকে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানান জিনপিং। বৈঠকের আগে দুই নেতার করমর্দন এবং একসঙ্গে হাঁটার দৃশ্য থেকেই স্পষ্ট ছিল সম্পর্কের বরফ গলানোর চেষ্টা চলছে।

প্রাথমিক আলোচনায় ট্রাম্প জিনপিংকে “বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আপনার বন্ধু হতে পেরে আমি সম্মানিত। এই সাক্ষাৎ আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।” পাশাপাশি এই বৈঠককে তিনি “এযাবৎকালের অন্যতম বড় শীর্ষ সম্মেলন” বলেও বর্ণনা করেন। ট্রাম্পের কথায়, বিশ্বের নজর এখন ওয়াশিংটন এবং বেজিঙের সম্পর্কের উপর।

অন্য দিকে, জিনপিংও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমাদের একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। সহযোগিতার মাধ্যমেই দুই দেশ উন্নতি করতে পারে।” তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে শক্তিধর দেশগুলির দায়িত্ব শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খুঁজে বের করা।

জিনপিং আরও বলেন, “বিশ্ব আজ আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি, তা হলে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরি করা সম্ভব।”

এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও কৌতূহল তুঙ্গে। কারণ, প্রায় ৯ বছর পরে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরকারি সফরে চিনে গেলেন। শেষ বার ২০১৭ সালে ট্রাম্পই বেজিঙে গিয়েছিলেন। এরপর বাণিজ্য যুদ্ধ, শুল্ক বিতর্ক, তাইওয়ান এবং ভূরাজনৈতিক টানাপড়েনে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল।

তবে এ বারের সফরের শুরু থেকেই বদলের ইঙ্গিত মিলেছে। ট্রাম্প বেজিঙে পৌঁছনোর পর তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যাং জ়েং। কূটনৈতিক মহলের মতে, এত উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিকে পাঠানো থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সম্পর্কের শৈত্য কাটাতে আগ্রহী বেজিঙ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিরল খনিজ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। ইরান প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদিও এখনও কোনও বড় চুক্তির ঘোষণা হয়নি, তবু দুই দেশের নেতাদের শরীরী ভাষা এবং বক্তব্যে স্পষ্ট— সংঘাতের বদলে নতুন সমীকরণের দিকেই এগোতে চাইছে ওয়াশিংটন ও বেজিঙ।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *