“তাপসকে ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল”, মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক নন্দিনী পাল

মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক নন্দিনী পাল! রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক পুরনো ক্ষোভ সামনে আসছে। এ বার প্রয়াত অভিনেতা ও প্রাক্তন সাংসদ তাপস পাল-কে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তাঁর…

May 9, 2026
1 min read

মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক নন্দিনী পাল!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক পুরনো ক্ষোভ সামনে আসছে। এ বার প্রয়াত অভিনেতা ও প্রাক্তন সাংসদ তাপস পাল-কে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তাঁর স্ত্রী নন্দিনী পাল। তাঁর অভিযোগ, তাপসকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করার পর শেষ পর্যন্ত একা ফেলে দিয়েছিল দল। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

নন্দিনীর দাবি, তাপস পাল রাজনীতিতে এসেছিলেন মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থেকে, কোনও ব্যক্তিগত লাভের আশায় নয়। তিনি বলেন, “তাপস খুব আবেগপ্রবণ মানুষ ছিল। মাথা দিয়ে নয়, মন দিয়ে সব সিদ্ধান্ত নিত। সেই কারণেই বারবার আঘাত পেয়েছে।”

তাঁর কথায়, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে যখন রাজ্যে বামফ্রন্টের দাপট, তখন টলিউডের খুব কম মানুষই মমতার পাশে দাঁড়াতেন। সেই সময় তাপস পালের বাড়িতে বহুবার গিয়েছিলেন মমতা। পরে তাঁর অনুরোধেই তৃণমূলে যোগ দেন অভিনেতা। নন্দিনীর মতে, রাজনীতিতে আসার পর নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাপসকে। তাঁর ছবি হলে চলতে দেওয়া হত না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তাপস পাল পরে সাংসদ হন এবং দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু নন্দিনীর অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর বদলে যায় সম্পর্কের সমীকরণ। তিনি বলেন, “দিদি ১৮০ ডিগ্রি বদলে গিয়েছিলেন। তখন তাপসের আর প্রয়োজন ছিল না।”

চিটফান্ড ও গরুপাচার নিয়ে তাপস সরব হয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন নন্দিনী। তাঁর কথায়, “তাপস কোনও টাকাপয়সা আত্মসাৎ করেনি। পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল।” যদিও তাপস পালের রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায় ছিল চৌমুহানির সেই মন্তব্য। সেই প্রসঙ্গ টেনে নন্দিনী বলেন, “ওই একটাই ভুল করেছিল তাপস। পরে ও নিজেও বুঝেছিল ভুল হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাপসের অসুস্থতা ও কঠিন সময়ে দল পাশে দাঁড়ায়নি। একবার নাকি মমতার সঙ্গে ফোনে কথা বলতেও চেয়েছিলেন অভিনেতা, কিন্তু সেই ফোন ধরা হয়নি বলেও দাবি তাঁর।

রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে সমর্থন করে নন্দিনী বলেন, “এই পরিবর্তন দরকার ছিল। এত দিন রাজ্য নয়, যেন একটা ক্লাব চালানো হচ্ছিল।” তাঁর আরও সংযোজন, “তাপসকে ব্যবহার করে শেষে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।”

তবে এত ক্ষোভের মাঝেও মমতার দীর্ঘ জীবন কামনা করেছেন নন্দিনী। তাঁর কথায়, “আমি চাই উনি অনেক দিন বেঁচে থাকুন, যাতে নিজের ভুলগুলো উপলব্ধি করতে পারেন।”

২০১৯ সালে ৫৯ বছর বয়সে প্রয়াত হন তাপস পাল। বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক থেকে রাজনীতির ময়দান— দুই ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। কিন্তু তাঁর স্ত্রী নন্দিনীর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায় নিয়ে ক্ষত এখনও মুছে যায়নি।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *