ক্ষমতা হারানোর পর অভিষেক!
দীর্ঘদিন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার পর হঠাৎ করেই বিরোধী রাজনীতির ময়দানে নেমে পড়া— Abhishek Banerjee-র সামনে এখন এই বাস্তবতাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। Mamata Banerjee-র নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারাতেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে— দলের এই ‘সেনাপতি’ এবার কোন পথে হাঁটবেন?
২০১১ সালের পর তৃণমূলের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গেই রাজনীতিতে প্রবেশ অভিষেকের। ধীরে ধীরে তিনি শুধু সাংসদ নন, সংগঠনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠেন। ২০২১ সালের পর তাঁর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়— দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ, সংগঠনের রাশ, প্রার্থী নির্বাচন— সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব ছিল স্পষ্ট। কালীঘাটের পাশাপাশি ক্যামাক স্ট্রিটও হয়ে ওঠে ক্ষমতার আরেক কেন্দ্র।
কিন্তু ২০২৬-এর ফলাফল সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছে। এখন আর প্রশাসনিক ক্ষমতা, পুলিশি প্রভাব বা শাসকদলের সুবিধা— কিছুই হাতে নেই। এই নতুন বাস্তবতায় অভিষেককে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করতে হবে— এটাই রাজনৈতিক মহলের মত।
অভিষেকের রাজনীতির ধরন বরাবরই কিছুটা আলাদা। তিনি ‘নতুন তৃণমূল’-এর কথা বলেছেন, সংগঠনে কর্পোরেট ধাঁচ এনেছেন, প্রবীণদের সরিয়ে নতুন মুখ তুলে এনেছেন। কোচবিহার, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা— একাধিক জেলায় তাঁর এই কৌশল দেখা গিয়েছে। ২০২৬-এর প্রার্থিতালিকাতেও সেই ছাপ স্পষ্ট ছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— এই পরিবর্তন কি খুব দেরিতে শুরু হয়েছিল?
সমালোচকদের মতে, অভিষেকের উত্থান অনেকটাই দ্রুত এবং ক্ষমতানির্ভর ছিল। বিরোধী রাজনীতির কঠিন বাস্তবের সঙ্গে তাঁর সরাসরি অভিজ্ঞতা কম। যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি, দিল্লির রাজনীতিতে তিনি বরাবরই বিজেপি-বিরোধী পরিসরে কাজ করেছেন, তদন্ত সংস্থার মুখোমুখিও হয়েছেন— ফলে লড়াই তাঁর অচেনা নয়।
তবে বাস্তবতা হল, রাজ্যে শাসকদলের বাইরে থেকে সংগঠন ধরে রাখা সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। এখন তাঁকে রাস্তায় নেমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে— কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা, ভাঙন রোখা, নতুন কৌশল তৈরি— সবই জরুরি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনে অভিষেকের জন্য তিনটি সম্ভাব্য পথ খোলা—
প্রথমত, বিরোধী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা। এতে সময় লাগবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, সংগঠনকে নতুনভাবে সাজিয়ে তৃণমূলকে দ্রুত ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা।
তৃতীয়ত, জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় ভূমিকা নেওয়া— যেখানে তিনি ইতিমধ্যেই কিছুটা সক্রিয়।
এখন নজর রয়েছে তাঁর এবং মমতার যৌথ অবস্থানের দিকে। দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই জুটির সিদ্ধান্তের উপর। কারণ, দলের ভিত এখনও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি— বরং নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত, অভিষেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে একটাই বিষয়— তিনি কত দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। ক্ষমতার রাজনীতি থেকে সংগ্রামের রাজনীতিতে এই রূপান্তরই হতে চলেছে তাঁর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা