মোহের মায়াজালে অমর কণ্ঠ: অপারের দেশে আশা ভোসলে

অপারের দেশে আশা ভোসলে! ‘মোহ’ যদি কখনও শব্দ ছেড়ে শরীর পায়, তবে তা যেন আশার কণ্ঠেই। সেই কণ্ঠ আজ থেমে গেছে—তবু তার প্রতিধ্বনি রয়ে গেছে অগণিত স্মৃতি, মেলা, পুজো প্যান্ডেল…

April 13, 2026
1 min read

অপারের দেশে আশা ভোসলে!

‘মোহ’ যদি কখনও শব্দ ছেড়ে শরীর পায়, তবে তা যেন আশার কণ্ঠেই। সেই কণ্ঠ আজ থেমে গেছে—তবু তার প্রতিধ্বনি রয়ে গেছে অগণিত স্মৃতি, মেলা, পুজো প্যান্ডেল আর রাতভর মঞ্চানুষ্ঠানের মধ্যে।

আশির দশকের এক শীতল মফস্‌সলের রাত কল্পনা করুন—কালীপুজো সবে শেষ, হালকা কুয়াশা আর জ্যোৎস্না মিশে আছে বাতাসে। গ্রামের সীমানায় মাইক বাজছে, চলছে সারারাতের বিচিত্রানুষ্ঠান। মঞ্চে একের পর এক শিল্পী এলেও, রাতের আসল জাদু তৈরি করছিল একটাই নাম—আশা ভোসলে।
কখনও ‘রাত বাকি’, কখনও ‘চুরা লিয়া’, আবার কখনও বাংলা গানের সুরে—‘একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও’। গাইছেন অন্য কেউ, কিন্তু কণ্ঠের ভিতর দিয়ে যেন ভেসে উঠছেন এক অদৃশ্য শিল্পী—আশা নিজে।

এই দৃশ্যটাই বোঝায়, কেন তিনি শুধু একজন গায়িকা নন, বরং এক সাংস্কৃতিক অনুভূতি।


কণ্ঠের জাদু: যেখানে বাস্তব ছাপিয়ে যায় কল্পনা

মুম্বইয়ের ঝলমলে দুনিয়া থেকে বহু দূরে, সাধারণ মানুষের জীবনে আশার গান ছিল এক অদ্ভুত আশ্রয়। দেশি মদের গন্ধ, বিড়ির ধোঁয়া আর ক্লান্ত জীবনের ফাঁকেও তাঁর কণ্ঠ এনে দিত অন্য এক জগৎ—যেখানে নায়িকা হয়ে ওঠেন পারভিন ববি বা জিনত আমন, আর দর্শক হারিয়ে যান কল্পনার ভেলায়।

পুরুষশাসিত বলিউডের ভিড়ে, যেখানে পুরুষ কণ্ঠের প্রভাব ছিল প্রবল, সেখানে আশার গলায় ফুটে উঠত এক অন্য রকম আবেদন—আবেগ, খেলা, আকর্ষণ, আবার কখনও দুঃখের গভীরতা। তাঁর গান যেন লুকিয়ে থাকা অনুভূতিগুলোকে সামনে এনে দিত।


সংগ্রাম থেকে শিখর

১৯৩৩ সালে জন্ম, অল্প বয়সেই বাবাকে হারানো, পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া—এই কঠিন পথ পেরিয়েই তৈরি হয় আশার সঙ্গীতজীবন। দিদি লতা মঙ্গেশকর-এর মতো মহাতারকার ছায়ায় থেকেও তিনি নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন।

প্রথম দিকে বড় সুযোগ না পেলেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। ও পি নাইয়ার-এর সঙ্গে কাজ তাঁর কেরিয়ারে মোড় ঘোরায়। পরবর্তীতে রাহুল দেব বর্মণ-এর সঙ্গে তাঁর সঙ্গীতযাত্রা একেবারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছয়।
এই জুটির গান আজও অমলিন—যেন সময়কে অগ্রাহ্য করে বেঁচে থাকা এক সুরের জগৎ।


বাংলার পুজোয় কেন এখনও ‘আশা’?

‘কিনে দে রেশমি চুড়ি’, ‘আজ যাই আসব আরেক দিন’—এই গানগুলি আজও পুজোর আবহ তৈরি করে। প্রজন্ম পাল্টায়, প্রযুক্তি বদলায়, কিন্তু আশার কণ্ঠ যেন একই রকম প্রাসঙ্গিক থেকে যায়।
এ যেন শুধু গান নয়, এক সামাজিক স্মৃতি—যা সময়ের সঙ্গে মুছে যায় না।


শেষ সুর, কিন্তু অমর প্রতিধ্বনি

আশা ভোসলে শুধু গান গেয়েছেন, এমনটা বলা কম হবে। তিনি ‘মোহ’কে জীবন্ত করেছেন—মানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা আর কল্পনাকে সুরের মাধ্যমে স্পর্শ করেছেন।

আজ তিনি অপারের দেশে। তবু রাত নামলে, কোথাও না কোথাও, কোনও মঞ্চে বা কোনও প্যান্ডেলে—হয়তো আবার বাজবে তাঁরই গান।
আর সেই সুরে আবারও ফিরে আসবে একটাই অনুভূতি—
মোহ, যা কখনও পুরনো হয় না।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *