তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় নতুন বার্তা!
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে এক অন্যরকম বার্তা দিল তৃণমূল কংগ্রেস। তালিকায় চোখ রাখলেই বোঝা যাচ্ছে— এ বার প্রচলিত ‘তারকা নির্ভর’ রাজনীতি থেকে খানিকটা সরে এসে সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষকে সামনে আনার উপরেই জোর দিয়েছে দল।
মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যৌথ ভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। প্রথম দেখায় তালিকায় বড় কোনও ‘চমক’ নেই বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু একটু খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যায়, চমকটা আসলে অন্য জায়গায়— নতুন মুখ আর বৈচিত্র্যের মিশেলে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন, ‘তারকা’ প্রার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া। ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র চার জনকে ‘তারকা’ বলা যায়। তাঁরা হলেন রাজ চক্রবর্তী, লাভলি মৈত্র, সোহম চক্রবর্তী এবং সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে যেখানে টলিউডের একাধিক মুখকে প্রার্থী করা হতো, সেখানে এ বার সেই প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। বরং আগের নির্বাচনে জেতা কিছু ‘তারকা’কেও টিকিট দেওয়া হয়নি— যা নিজেই একটি বড় বার্তা।
তবে আসল চমক লুকিয়ে রয়েছে পেশাগত বৈচিত্র্যে। প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন ১১ জন আইনজীবী, ১০ জন চিকিৎসক, ৬৪ জন ব্যবসায়ী এবং প্রায় ২৮ জন শিক্ষাজগতের সঙ্গে যুক্ত মানুষ। অর্থাৎ, শুধুমাত্র রাজনীতিবিদ নয়— সমাজের বিভিন্ন স্তরের অভিজ্ঞ মানুষকে ভোটের ময়দানে নামানো হয়েছে।
এই তালিকায় বিশেষ নজর কেড়েছেন বাবর আলি— যাঁকে অনেকেই ‘পৃথিবীর কনিষ্ঠতম হেডমাস্টার’ হিসেবে চেনেন। ছোটবেলায় নিজের উঠোনে পড়ানো শুরু করে যে উদ্যোগ, তা আজ একটি পূর্ণাঙ্গ স্কুলে পরিণত হয়েছে। সেই শিক্ষককেই প্রার্থী করে তৃণমূল এক অন্য বার্তা দিতে চেয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
শুধু শিক্ষাক্ষেত্র নয়, স্বাস্থ্যক্ষেত্র থেকেও একাধিক মুখকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল— সেই প্রেক্ষাপটে চিকিৎসকদের প্রার্থী করা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত বিশ্লেষকদের।
সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের দিকেও নজর রেখেছে দল। ফুরফুরা শরিফের ধর্মীয় পরিমণ্ডল থেকে উঠে আসা কাশেম সিদ্দিকি-কে প্রার্থী করা হয়েছে— যা রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এ ছাড়া, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি জগত থেকেও কিছু মুখ রয়েছেন। প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল, অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ এবং সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন ও অদিতি মুন্সি— সকলেই রয়েছেন তালিকায়। তবে তাঁদের ক্ষেত্রেও স্থানীয় প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই প্রার্থী তালিকা যেন এক ধরনের পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ— যেখানে ‘তারকা’ কম, কিন্তু সমাজের নানা স্তরের প্রতিনিধিত্ব বেশি। তৃণমূলের এই কৌশল ভোটের বাক্সে কতটা সাফল্য পায়, সেটাই এখন দেখার।
ধীরে ধীরে কমান চিনির অভ্যাস: স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর কয়েকটি সহজ উপায়