গ্যাস সরবরাহে চাপ: সংকট সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, খোঁজা হচ্ছে নতুন উৎস

গ্যাস সরবরাহে চাপ! পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে ভারতের রান্নার গ্যাসের বাজারে। ইরান হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করার পর থেকেই এলপিজির জোগান ও…

March 11, 2026
1 min read

গ্যাস সরবরাহে চাপ!

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে ভারতের রান্নার গ্যাসের বাজারে। ইরান হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করার পর থেকেই এলপিজির জোগান ও দাম—দুটো নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের সামগ্রিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi।

মঙ্গলবার তিনি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী Hardeep Singh Puri এবং বিদেশমন্ত্রী Subrahmanyam Jaishankar-এর সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। মূল লক্ষ্য—দেশের গৃহস্থালি ক্ষেত্র যাতে এই সংকটের সবচেয়ে কম প্রভাব অনুভব করে, তা নিশ্চিত করা।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা Indian Oil Corporation (আইওসি) জানিয়েছে, এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে গৃহস্থালি ব্যবহারকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা ক্ষেত্রকেও প্রাধান্য দেওয়া হবে।

সংকটের জেরে ইতিমধ্যেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও। মুম্বইয়ে হোটেল ও রেস্তরাঁ মালিকদের সংগঠন ‘আহার’ জানিয়েছে, গ্যাসের অভাবে শহরের প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে। দেশের অন্য শহরেও একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার একাধিক বিকল্প পথ খুঁজছে। শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) প্রয়োজনে গৃহস্থালি ব্যবহারে অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এলপিজি বুকিংয়ের নিয়মেও কিছু পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধ করা যায়।

আইওসি জানিয়েছে, কোন কোন প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রকে কীভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হবে তা পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলির তিনজন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিয়ে এই কমিটি তৈরি হয়েছে। তারা হোটেল, রেস্তরাঁ ও অন্যান্য শিল্পের আবেদন খতিয়ে দেখে প্রয়োজন ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে গ্যাস বরাদ্দ করবে।

ভারতের জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। দেশে ব্যবহৃত পেট্রোপণ্যের প্রায় ৮৮ শতাংশই বিদেশ থেকে আসে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ আসে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে—যে পথ ধরে ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েতের মতো দেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করা হয়।

এলপিজির ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ভারতের মোট চাহিদার প্রায় ৬২ শতাংশ আমদানি হয় এই প্রণালী দিয়ে। বছরে দেশে প্রায় ৩ কোটি ১৩ লক্ষ টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ গৃহস্থালি এবং বাকি ১৩ শতাংশ বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

এই সংকট মোকাবিলায় ভারত ইতিমধ্যেই বিকল্প উৎসের সন্ধান শুরু করেছে। রাশিয়া, আমেরিকা ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকা ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি শোধনাগারগুলিকে পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন কিছুটা কমিয়ে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গৃহস্থালির গ্রাহকদের সুরক্ষার জন্য রিফিল বুকিংয়ের ব্যবধানও ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য—সরবরাহের উপর চাপ কমানো এবং কালোবাজারি ঠেকানো।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক হলেও সরকার বিকল্প উৎস খোঁজা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে পুনর্বিন্যাস করার মাধ্যমে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *