মহাকাশে ইতিহাস: গ্রহাণুকে ধাক্কা মেরে বদলে দিলেন তার কক্ষপথ

গ্রহাণুকে ধাক্কা মেরে বদলে দিলেন তার কক্ষপথ! মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সাফল্যের কথা জানালেন বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে একটি গ্রহাণুকে আঘাত করে তার গতিপথ বদলাতে সক্ষম হয়েছে। কয়েক…

March 9, 2026
1 min read

গ্রহাণুকে ধাক্কা মেরে বদলে দিলেন তার কক্ষপথ!

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সাফল্যের কথা জানালেন বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে একটি গ্রহাণুকে আঘাত করে তার গতিপথ বদলাতে সক্ষম হয়েছে। কয়েক বছর আগে চালানো এই পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর বিজ্ঞানীরা এখন নিশ্চিত—শুধু সংঘর্ষই ঘটেনি, সত্যিই বদলে গেছে গ্রহাণুটির কক্ষপথ।

এই অসাধারণ পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল দুটি গ্রহাণু—Didymos এবং তার ছোট সঙ্গী Dimorphos। তারা সৌরজগতের মধ্যেই ঘুরে বেড়ায় এবং একে অপরের মহাকর্ষীয় টানে যুক্ত। বড় গ্রহাণু ডিডিমসের ব্যাস প্রায় ৭৮০ মিটার, আর তার চারপাশে ঘুরতে থাকা ছোট গ্রহাণু ডিমরফসের ব্যাস প্রায় ১৬০ মিটার।

২০২২ সালে এই দুই গ্রহাণু পৃথিবীর তুলনামূলক কাছাকাছি চলে আসে—প্রায় ৬৮ লক্ষ মাইল (প্রায় ১.১ কোটি কিলোমিটার) দূরত্বে। সেই সুযোগেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চালায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA। তাদের পরিকল্পনা ছিল একটি মহাকাশযান পাঠিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ডিমরফসকে ধাক্কা দেওয়া, যাতে বোঝা যায় বাইরে থেকে আঘাত করে গ্রহাণুর গতিপথ বদলানো সম্ভব কি না।

এই পরীক্ষামূলক অভিযানের নাম ছিল Double Asteroid Redirection Test বা সংক্ষেপে ‘ডার্ট’ মিশন। নির্দিষ্ট সময়ে মহাকাশযানটি ডিমরফসের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। আঘাতের পর মহাকাশযানটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং তার ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে মহাশূন্যে। সেই সময় থেকেই বিজ্ঞানীরা আশা করেছিলেন যে এর ফলে অন্তত গ্রহাণুটির কক্ষপথে কিছু পরিবর্তন ঘটতে পারে।

ডিডিমস এবং ডিমরফস একে অপরকে প্রদক্ষিণ করে। আগে হিসাব ছিল—ডিমরফস ডিডিমসকে ঘিরে একটি নির্দিষ্ট সময়ে একবার ঘুরে আসে। বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন সংঘর্ষের ফলে এই কাক্ষিক সময়ে হয়তো সাত মিনিটের মতো পরিবর্তন দেখা যাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ফলাফল তার চেয়েও নাটকীয়। সংঘর্ষের পর সেই সময়ে প্রায় ৩৩ মিনিটের পরিবর্তন ঘটে।

এই ফলাফল তখনই বিজ্ঞানীদের উচ্ছ্বসিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে আরও বড় তথ্য সামনে এসেছে—শুধু সময়ের পরিবর্তন নয়, ডিমরফসের কক্ষপথও সত্যিই বদলে গেছে। মহাকাশ বিজ্ঞানে এটিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পরীক্ষার পিছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যও ছিল—পৃথিবীকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মহাজাগতিক বিপদ থেকে রক্ষা করার উপায় খুঁজে বের করা। মহাবিশ্বে অসংখ্য গ্রহাণু, ধূমকেতু ও অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু ভেসে বেড়াচ্ছে। এদের মধ্যে কোনও একটি যদি হঠাৎ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তাহলে তা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এই আশঙ্কা থেকেই বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছিলেন—প্রযুক্তির সাহায্যে কি কোনও গ্রহাণুর পথ পরিবর্তন করা সম্ভব। ডার্ট মিশন সেই সম্ভাবনার প্রথম সফল প্রমাণ দিয়েছে।

তবে বিজ্ঞানীরা এটাও বলছেন, এটি কেবল শুরু। ভবিষ্যতে আরও বড় বা শক্তিশালী গ্রহাণুর ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।

এদিকে ইউরোপের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা European Space Agency ইতিমধ্যেই পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেছে। দশকের শেষের দিকে তারা Hera mission নামে একটি মহাকাশযান পাঠাবে ডিডিমস-ডিমরফস জুটির কাছে। সেখানে গিয়ে ডিমরফসের পৃষ্ঠে তৈরি হওয়া গর্ত, সংঘর্ষের প্রভাব এবং কক্ষপথের পরিবর্তন নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মানুষের প্রযুক্তি প্রথমবারের মতো মহাজাগতিক এক বস্তুর গতিপথ বদলাতে পেরেছে। ভবিষ্যতে পৃথিবীকে সম্ভাব্য মহাকাশ বিপদ থেকে রক্ষার পথে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *