মহাকাশে জীবনের ইঙ্গিত?
আমাদের সৌরজগতেই লুকিয়ে থাকতে পারে জীবনের বীজ—এমনই এক চমকপ্রদ ইঙ্গিত মিলল সাম্প্রতিক গবেষণায়। পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থিত Ryugu নামের একটি গ্রহাণুতে পাওয়া গেছে ডিএনএ ও আরএনএ-র গঠনকারী সব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
এই আবিষ্কার শুধু মহাকাশবিজ্ঞানীদেরই নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও বিস্ময় জাগিয়েছে। কারণ, এতদিন মনে করা হত জীবনের মূল উপাদানগুলি মূলত পৃথিবীতেই তৈরি হয়েছে। কিন্তু নতুন গবেষণা সেই ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
কী এই রিউগু?
রিউগু একটি নিকট-পৃথিবী গ্রহাণু, যা সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। মহাকাশের হিসেবে এটি তুলনামূলকভাবে “কাছেই”—এই কারণেই গবেষণার জন্য এটিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালে জাপানের মহাকাশ সংস্থা JAXA একটি বিশেষ অভিযান শুরু করে। ‘হায়াবুসা-২’ নামের মহাকাশযান পাঠানো হয় রিউগুর উদ্দেশে।
ছয় বছরের দীর্ঘ অভিযানের পর ২০২০ সালে সেই মহাকাশযান পৃথিবীতে ফিরে আসে—সঙ্গে নিয়ে আসে গ্রহাণুর মাটি। সেই মাটির নমুনা নিয়েই চলছে গবেষণা।
কী পাওয়া গেল?
প্রথমে ২০২৩ সালে রিউগুর মাটিতে পাওয়া যায় ইউরাসিল—যা আরএনএ-র একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এবার আরও বড় চমক—বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ডিএনএ এবং আরএনএ-র সব ধরনের বেস (যৌগিক উপাদান)ই এই নমুনায় রয়েছে।
ডিএনএ ও আরএনএ গঠিত হয় পাঁচটি মূল উপাদানে—অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থাইমিন এবং ইউরাসিল। এর মধ্যে ডিএনএ-তে থাকে প্রথম চারটি, আর আরএনএ-তে থাইমিনের জায়গায় থাকে ইউরাসিল। রিউগুতে এই সব উপাদানের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।
এর অর্থ কী?
এই আবিষ্কার মানে এই নয় যে রিউগুতে প্রাণ আছে। তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে—পৃথিবীতে জীবনের সূচনা কি মহাকাশ থেকেই হয়েছিল?
বিজ্ঞানীদের একটি দীর্ঘদিনের তত্ত্ব বলছে, কোটি কোটি বছর আগে কোনও গ্রহাণু বা উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে জীবনের মৌলিক উপাদান নিয়ে এসেছিল। এই নতুন গবেষণা সেই তত্ত্বকেই আরও জোরালো করছে।
অন্য উদাহরণও আছে
এর আগেও NASA-এর ‘ওসিরিস-রেক্স’ মিশনে Bennu গ্রহাণু থেকে আনা নমুনায় একই ধরনের উপাদান পাওয়া গিয়েছিল। এমনকি পৃথিবীতে পড়া কিছু উল্কাপিণ্ডেও এই উপাদানের উপস্থিতি মিলেছে।
শেষ কথা
রিউগুর মাটিতে ডিএনএ-র উপাদান পাওয়া মানে, মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা হয়তো আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি বিস্তৃত। যদিও এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি, তবুও এই আবিষ্কার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে—আমরা কোথা থেকে এলাম, সেই চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পথে।