৬০ লক্ষ ভোটার এখনও ‘বিবেচনাধীন’!
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া Special Intensive Revision (SIR) ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। কারণ, লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের হিসেব বলছে, প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নথি এখনও বিচারাধীন, অথচ এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র প্রায় ৪ লক্ষের মতো। ফলে কাজ শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সবার নজর এখন Supreme Court of India-এর দিকে। আগামী ১০ মার্চ এসআইআর সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বিপুল সংখ্যক বিচারাধীন ভোটারের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরা হতে পারে।
কত সংখ্যক ভোটার তালিকার বাইরে?
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—
- কেউ মৃত
- কেউ অন্যত্র স্থানান্তরিত
- কেউ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত
- আবার কারও নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে
কিন্তু এর পাশাপাশি আরও ৬০ লক্ষ ৬ হাজারেরও বেশি ভোটার এখনও ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছেন। বিচারকেরা তাঁদের জমা দেওয়া নথি পরীক্ষা করে দেখছেন। কমিশনের সূত্র বলছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৪ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ এখনও প্রায় ৫৬ লক্ষের বেশি নামের সিদ্ধান্ত বাকি।
কাজের গতি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ
নির্বাচন কমিশন অবশ্য আশা ছাড়ছে না। বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী রাজ্য Bihar ও Jharkhand থেকে প্রায় ২০০ জন বিচারক আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁরা দায়িত্ব নিলে যাচাইয়ের গতি বাড়বে বলেই মনে করছে কমিশন।
তবু মূল প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— এত বিপুল সংখ্যক আবেদন কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব?
কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বিবেচনাধীন ভোটার?
এসআইআরের প্রথম দফার তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার রয়েছে Murshidabad ও Malda জেলায়। উদাহরণ হিসেবে মালদহের কথা ধরা যায়—
- জেলায় মোট ভোটার প্রায় ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার
- তার মধ্যে প্রায় ৮ লক্ষ ২৮ হাজার এখনও বিচারাধীন
এই হিসেব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে যত কাজ হয়েছে, তা এক জেলার অর্ধেক বিচারাধীন ভোটারের সমান বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভোটের প্রস্তুতিও জোরকদমে
এদিকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে শিগগিরই ভার্চুয়াল পর্যালোচনা বৈঠক হওয়ার কথা। শোনা যাচ্ছে, Election Commission of India-এর ফুল বেঞ্চও খুব শিগগিরই রাজ্যে আসতে পারে।
প্রথা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরেই সাধারণত ভোট ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগমন
ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়েছে। মোট প্রায় ৪৮০ কোম্পানি আধাসেনা আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি এসে পৌঁছেছে এবং বিভিন্ন জেলায় রুট মার্চ শুরু করেছে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাকি বাহিনী আসার কথা।
সব মিলিয়ে নির্বাচন প্রস্তুতি জোরকদমে চললেও সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখনও ঝুলে আছে— ৬০ লক্ষের বেশি বিবেচনাধীন ভোটারের ভাগ্য ঠিক হবে কবে? তার উত্তর মিলতে পারে আগামী ১০ মার্চের শুনানিতেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?