দোহায় ফাইনালিসিমা ঘিরে দুশ্চিন্তা: যুদ্ধের ছায়ায় মেসি–ইয়ামাল মহারণ

দোহায় ফাইনালিসিমা ঘিরে দুশ্চিন্তা! মার্চের শেষ সপ্তাহে ফুটবল দুনিয়ার নজর থাকার কথা ছিল দোহায়। কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আর ইউরো জয়ী স্পেন—দুই মহাদেশের সেরা দল মুখোমুখি হওয়ার কথা ২৭ মার্চ,…

March 3, 2026
1 min read

দোহায় ফাইনালিসিমা ঘিরে দুশ্চিন্তা!

মার্চের শেষ সপ্তাহে ফুটবল দুনিয়ার নজর থাকার কথা ছিল দোহায়। কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আর ইউরো জয়ী স্পেন—দুই মহাদেশের সেরা দল মুখোমুখি হওয়ার কথা ২৭ মার্চ, ফাইনালিসিমায়। একদিকে লিয়োনেল মেসি, অন্যদিকে উঠতি তারকা লামিনে ইয়ামাল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের আগে এখন বড় প্রশ্ন—ম্যাচটি আদৌ হবে তো?

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলকে ঘিরে সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। হামলা–পাল্টা হামলার আবহে কাতারও নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রে চলে এসেছে। দোহায় গত কয়েক দিনে মিসাইল হামলার খবর মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দেশের সব ঘরোয়া ফুটবল প্রতিযোগিতা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক এই মহাম্যাচ নিয়েও।

কাতার বিশ্বকাপ আয়োজন করে ইতিমধ্যেই নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। FIFA World Cup 2022-এর সাফল্যের পর আবারও বড় মঞ্চের দায়িত্ব পেয়েছিল তারা। এ বারের ফাইনালিসিমা আয়োজনের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল দোহাকেই। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না আয়োজক সংস্থাগুলি।

ফাইনালিসিমা যৌথ ভাবে আয়োজন করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা UEFA এবং দক্ষিণ আমেরিকার সংস্থা CONMEBOL, ফিফার তত্ত্বাবধানে। এখনও পর্যন্ত ম্যাচ স্থগিত বা স্থানান্তরের কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে দুই সংস্থাই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকদের নিরাপত্তাই সবার আগে।

ফুটবল কর্তারা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন। কারণ কাতার একমাত্র উদ্বেগের জায়গা নয়। কুয়েত, ইরাক, জর্ডন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, ওমান ও বাহরিনেও সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার অন্য কোনও দেশেও ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ হবে না।

এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার হয়ে হয়তো শেষ দিকের বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলির একটিতে নামার কথা মেসির। অন্যদিকে, স্পেনের তরুণ প্রজন্মের মুখ ইয়ামাল—যার পায়ের জাদু ইতিমধ্যেই ইউরোপে আলোড়ন তুলেছে। দুই প্রজন্মের, দুই ধারার ফুটবলের সংঘর্ষ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সমর্থকেরা।

কিন্তু এখন ফুটবল নয়, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নিরাপত্তা। ফিফা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি চাইছে পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত কোনও ঝুঁকি না নিতে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে শেষ মুহূর্তেও—স্থগিত, স্থানান্তর বা নির্ধারিত সূচি বজায় রাখা—সবই খোলা রয়েছে।

ফুটবল বহুবার প্রমাণ করেছে, সংঘাতের মধ্যেও সে আশা জাগাতে পারে। তবু বাস্তবতা হল, খেলোয়াড়দের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা যায় না। দোহায় মেসি–ইয়ামাল মহারণ হবে কি না, তার উত্তর দেবে সময়। আপাতত বিশ্ব ফুটবল তাকিয়ে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার আকাশের দিকে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *