ভোট পিছোনোর ‘চক্রান্ত’? তীব্র আক্রমণে অভিষেক!
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ভোট প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে বিচারব্যবস্থার একটি অংশকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় জনতা পার্টি। শুধু তাই নয়, রাজ্যে ধীরে ধীরে সাংবিধানিক সংকট তৈরি করে রাষ্ট্রপতি শাসনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “রাষ্ট্রপতি শাসন করতে চাইলে করে দেখুক!”
📋 ভোটার তালিকা ঘিরে বিতর্ক
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আংশিক চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’।
অভিষেকের দাবি, প্রায় ৫০০ আধিকারিক এই বিশাল সংখ্যক নথি যাচাইয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন— “এত বড় কাজ শেষ হতে তিন-চার মাস লাগবে, তা হলে মে মাসের মধ্যে ভোট কীভাবে সম্ভব?”
তিনি বলেন, সময়সীমা মেনে ভোট করাতে গেলে বাস্তবে এই যাচাই সম্পূর্ণ করা প্রায় অসম্ভব।
⚖️ আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ৬০ লক্ষ মানুষের নাম আগেই খসড়া তালিকায় ছিল, ফলে তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না। বিষয়টি আদালতে তোলার কথাও জানিয়েছেন অভিষেক।
তিনি বলেন, দল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এর কাছে আবেদন করবে যাতে বিবেচনাধীন ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়।
📊 কারচুপির অভিযোগ
অভিষেকের দাবি, নতুন ভোটারের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বাতিল ভোটারের সংখ্যা বাড়ার মধ্যে সন্দেহজনক প্রবণতা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ— বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের বহু এলাকায় বিপুল সংখ্যক নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বিবেচনাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, এই তালিকায় মহিলা, তফসিলি ও সংখ্যালঘু ভোটারদের বেশি করে টার্গেট করা হয়েছে, কারণ তাঁরা ঐতিহ্যগতভাবে তৃণমূল কংগ্রেস-এর সমর্থক।
🗣️ রাজনৈতিক বার্তা ও আত্মবিশ্বাস
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী সুরও শোনা গেছে তাঁর বক্তব্যে। অভিষেকের দাবি, ২০২৬ সালের নির্বাচনে আগের বারের তুলনায় তৃণমূলের ভোট ও আসন— দুটোই বাড়বে।
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “এসআইআর করুন বা এফআইআর, বিজেপি ৫০-এর নীচে নেমে যাবে।”
এ প্রসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যার উদাহরণ টেনে বলেন, বাস্তব চিত্র বিজেপির দাবির সঙ্গে মিলছে না।
🚩 সামনে আন্দোলনের প্রস্তুতি
ভোটার তালিকা ইস্যুতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিও জোরদার করছে তৃণমূল। আদালতে যাওয়ার পাশাপাশি সংগঠনকে বুথস্তরে সক্রিয় রাখা এবং পথে আন্দোলনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন অভিষেক।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগেই রাজ্যের রাজনীতিতে সংঘাতের সুর আরও তীব্র হয়ে উঠছে— আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রে এখন ভোটার তালিকা ও নির্বাচন সময়সূচি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?