বিজেপি-সিপিএম যোগ এখন আর অলিখিত নয়: ‘বাংলা’ নাম আদায়ে অনড় মমতা

‘বাংলা’ নাম আদায়ে অনড় মমতা! কেরলের নাম বদলের অনুমোদন মিলতেই আবার নতুন করে জোরালো হল পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের দাবি। দক্ষিণের রাজ্যের নতুন নাম “কেরলম” ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট…

February 25, 2026
1 min read

‘বাংলা’ নাম আদায়ে অনড় মমতা!

কেরলের নাম বদলের অনুমোদন মিলতেই আবার নতুন করে জোরালো হল পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের দাবি। দক্ষিণের রাজ্যের নতুন নাম “কেরলম” ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিলেন— পশ্চিমবঙ্গের নাম “বাংলা” করেই ছাড়বেন তিনি।

সোমবার সেবাতীর্থ কমপ্লেক্সে প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কেরলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে সিলমোহর দেয় কেন্দ্র। এরপরই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা বলেন, কেরলে ভারতীয় জনতা পার্টি এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী)-র মধ্যে এখন আর “অলিখিত নয়, লিখিত যোগ” তৈরি হয়েছে বলেই এই অনুমোদন সম্ভব হয়েছে।

কেন এত জোর ‘বাংলা’ নাম নিয়ে?

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের নাম ইংরেজি বর্ণানুক্রমে পিছিয়ে থাকার কারণে প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে নানা অসুবিধা হয়। তিনি বলেন,

“আমাদের রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় পিছনের বেঞ্চে বসে। সরকারি বৈঠকেও আমাদের সুযোগ আসে সবার শেষে।”

তাঁর মতে, রাজ্যের সংস্কৃতি, ইতিহাস, চিন্তা-দর্শন— সবকিছুর প্রতিফলন ঘটাতেই “বাংলা” নামের প্রস্তাব আনা হয়েছিল। রাজ্য বিধানসভায় একাধিকবার তা পাশও হয়েছে। পরে কেন্দ্রের পরামর্শ মেনে তিন ভাষাতেই একই নাম রেখে নতুন প্রস্তাবও পাঠানো হয়— তবু অনুমোদন মেলেনি।

কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মমতার অভিযোগ, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রাজনৈতিক কারণে পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে উদাসীন। তাঁর কথায়,
“নির্বাচনের সময় বাংলা বলে, কিন্তু বাস্তবে বাংলার প্রতি সম্মান নেই বলেই নাম বদলের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।”

তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন— অন্য রাজ্যের নাম পরিবর্তনে তাঁর আপত্তি নেই। বরং তিনি কেরলবাসীকে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।

কেরল পেল, বাংলা নয় কেন?

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেরলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ফলেই দ্রুত অনুমোদন মিলেছে। তাঁর বক্তব্য—
“আজকের সিদ্ধান্তই প্রমাণ, সেখানে বিজেপি-সিপিএমের সম্পর্ক এখন প্রকাশ্য।”

কীভাবে হয় রাজ্যের নাম পরিবর্তন?

ভারতে কোনও রাজ্যের নাম বদলাতে হলে একাধিক সাংবিধানিক ধাপ পার হতে হয়—

  • প্রথমে রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ
  • কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যাচাই
  • বিভিন্ন দফতরের মতামত
  • সংসদে বিল পেশ ও পাশ
  • রাষ্ট্রপতির অনুমোদন

এই প্রক্রিয়া পেরিয়েই কেরল-এর নাম “কেরলম” হয়েছে।

বাংলার দাবি এখনও ঝুলে

২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাঠানো “বাংলা” নামের প্রস্তাব এখনও কেন্দ্রের অনুমোদনের অপেক্ষায়। তা খারিজও হয়নি, আবার অনুমোদনও মেলেনি।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনড়—
“আজ নয়, কাল নয়— একদিন বাংলার নাম আমরা আদায় করবই।”

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই তাই “বাংলা” নামের লড়াই নতুন করে জাতীয় আলোচনায় উঠে এল।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *