সংকটের ছায়ায় ইরান: খামেনেইয়ের পর নেতৃত্বে কাকে ভরসা করছেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা?

সংকটের ছায়ায় ইরান! মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে উত্তেজনা যেন দিন দিন বাড়ছেই। আন্তর্জাতিক চাপ, অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ— সব মিলিয়ে অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয়…

February 24, 2026
1 min read

সংকটের ছায়ায় ইরান!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে উত্তেজনা যেন দিন দিন বাড়ছেই। আন্তর্জাতিক চাপ, অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ— সব মিলিয়ে অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিজেই আশঙ্কা করছেন, তিনি গুপ্তহত্যার শিকার হতে পারেন। আর সেই আশঙ্কা থেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের পরিকল্পনাও নাকি তৈরি করে ফেলেছেন তিনি।


সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে?

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The New York Times-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, জরুরি পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে খামেনেই বেছে রেখেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী আলি লারিজানি-কে।

লারিজানি শুধু রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ নন, তিনি নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। একসময় তিনি ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং বর্তমানে দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা— সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন।

এই কারণেই সংকটময় মুহূর্তে তাঁকেই সবচেয়ে ভরসাযোগ্য মনে করছেন খামেনেই।


কেন এত সতর্কতা?

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। রাজধানী তেহরান-সহ বিভিন্ন জায়গায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক স্তরে, বিশেষ করে ইরান-এর উপর মার্কিন চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

এই উত্তেজনার মাঝেই মার্কিন রাজনীতিক ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।


শুধু উত্তরসূরি নয়, নিরাপত্তার নির্দেশও

সূত্রের দাবি, খামেনেই তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন—

  • দেশের নিরাপত্তা যে কোনও মূল্যে বজায় রাখতে হবে
  • সম্ভাব্য হামলা বা যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে
  • শীর্ষ নেতৃত্বের উপর হামলা হলেও প্রশাসনিক কাঠামো সচল রাখতে হবে

এই নির্দেশ থেকেই বোঝা যায়, পরিস্থিতিকে তিনি কতটা গুরুতর বলে মনে করছেন।


লারিজানির উপর আস্থার কারণ

বিশ্লেষকদের মতে, লারিজানির সবচেয়ে বড় শক্তি হল তাঁর দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষতা। তিনি একাধারে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং সামরিক কাঠামোর কাছেও বিশ্বাসযোগ্য।

এক ইরানি বিশ্লেষকের কথায়, “এত সংবেদনশীল সময়ে নেতৃত্বের জন্য যিনি প্রয়োজন— স্থির, অভিজ্ঞ এবং বিশ্বস্ত— সেই মানদণ্ডে লারিজানিই সবচেয়ে এগিয়ে।”


সংকেত কী দিচ্ছে এই সিদ্ধান্ত?

এই পদক্ষেপ শুধু নেতৃত্ব বদলের প্রস্তুতি নয়— বরং ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ সংঘাত বা অস্থিরতার আশঙ্কাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

রাজনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ— সব মিলিয়ে যে সময়ের মুখোমুখি ইরান, সেখানে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *