খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন কারা?
ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তিনি তেহরানে যাচ্ছেন না। তাঁর প্রতিনিধিত্বেই এই দুই শীর্ষ ব্যক্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
অন্য দিকে, ইরান সরকার কংগ্রেসের তিন নেতাকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তালিকায় রয়েছেন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সলমন খুরশিদ এবং এআইসিসির মুখপাত্র পবন খেড়া। তবে তাঁরা শেষ পর্যন্ত ইরানে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সলমন খুরশিদ জানিয়েছেন, আমন্ত্রণপত্র পাওয়া গিয়েছে এবং দলীয় স্তরে আলোচনা করেই প্রতিনিধিদের নাম চূড়ান্ত করা হবে।
ইরান সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৫ জুলাই তেহরানে শেষকৃত্যের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে ৯ জুলাই খামেনেইকে তাঁর জন্মশহর মাশহাদে সমাহিত করা হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, খামেনেই নিহত হওয়ার প্রায় চার মাস পর তাঁর রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সামরিক অভিযানে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে ইরান দাবি করে। একই হামলায় দেশের একাধিক শীর্ষ সামরিক আধিকারিকও নিহত হন। তাঁদের দ্রুত রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হলেও খামেনেইয়ের অন্ত্যেষ্টি বিলম্বিত হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছিল।
এই দীর্ঘ বিলম্বের নেপথ্যে নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে খামেনেইয়ের পুত্র মোজ়তবা খামেনেইকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হলেও, তিনিও হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বর্তমান অবস্থান বা শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরান সরকার এখনও প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলির মতে, নেতৃত্বের পরিবর্তনের সংবেদনশীল সময় এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণেই শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্য শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। অতীতে কাসেম সোলেমানির শেষযাত্রায় লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত প্রশমনের পর ইরান শেষকৃত্যের সূচি ঘোষণা করে। এরপরই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অনুষ্ঠান শুধু শোকানুষ্ঠান নয়, বরং ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বার্তা এবং কূটনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরবে। ভারতের সরকারি প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপস্থিতি সেই কারণেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?