আফগানিস্তান-পাক উত্তেজনায় কড়া প্রতিক্রিয়া
আফগানিস্তানের আকাশে আবার যুদ্ধের ছায়া। শনিবার গভীর রাতে পকতিকার বরমল জেলায় একটি মাদ্রাসা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে Pakistan-এর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর দাবি করেছে Afghanistan। তবে ইসলামাবাদের দাবি, তাদের অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল জঙ্গিঘাঁটি, এবং তাতে প্রায় ৭০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে India প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে এবং আফগানিস্তানের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে।
ভারতের কড়া অবস্থান
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র Randhir Jaiswal এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, পবিত্র রমজান মাসে আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, যা ভারতকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা পাকিস্তান সরকারের ব্যর্থতাকেই সামনে এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে আফগান জনগণের পাশে থাকার আশ্বাসও দেয় নয়াদিল্লি।
পাকিস্তানের দাবি কী?
ইসলামাবাদের বক্তব্য একেবারেই আলাদা। তাদের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলিকে টার্গেট করেই অভিযান চালানো হয়েছে। পকতিকা, নঙ্গরহার এবং খোস্ত প্রদেশের অন্তত সাতটি গোপন ঘাঁটিতে হামলা করা হয়।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ভিতরে একাধিক হামলার পেছনে রয়েছে Tehrik-i-Taliban Pakistan এবং ইসলামিক স্টেটের খোরসান শাখা। সেই কারণেই এই সামরিক অভিযান।
উত্তেজনার পটভূমি
এই হামলার আগে থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে। চলতি মাসের শুরুতে ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। তার পর আবার খাইবার পাখতুনখোয়ায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই সব ঘটনার পরই আফগান সীমান্তে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান।
তালিবান সরকারের প্রতিক্রিয়া
কাবুলে ক্ষমতাসীন Taliban সরকার এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। পাশাপাশি ইঙ্গিত দিয়েছে— এই হামলার জবাব “সময়ের অপেক্ষা মাত্র”।
তবে সূত্রের খবর, তালিবান প্রশাসন এখনই পাল্টা পদক্ষেপে তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কৌশল ঠিক করতেই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
সীমান্তে বাড়ছে উদ্বেগ
২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ অবনতি হয়েছে। গত বছর সীমান্ত সংঘর্ষে দুই পক্ষের বহু প্রাণহানি ঘটে। ফলে বর্তমান হামলা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই