মক্কায় পাক-সৌদি-তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি, বদলাচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার সমীকরণ? ভারত-ইজ়রায়েলকে ঘিরে নতুন জোটের জল্পনা

মক্কায় পাক-সৌদি-তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি! পশ্চিম এশিয়ার পবিত্র শহর মক্কায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় সই করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। তিন দেশের এই চুক্তিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনা…

August 8, 2026
1 min read

মক্কায় পাক-সৌদি-তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি!

পশ্চিম এশিয়ার পবিত্র শহর মক্কায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় সই করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। তিন দেশের এই চুক্তিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনও ‘ইসলামিক নেটো’-র ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। পাল্টা ভাবে ভারত, ইজ়রায়েল, গ্রিস, সাইপ্রাস এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে ঘিরে নতুন প্রতিরক্ষা সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

চুক্তিটির সরকারি নাম ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। ৭ অগস্ট তাতে সই করেন সৌদি যুবরাজ তথা প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়িপ এর্ডোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। চুক্তির মূল বক্তব্য, তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে বাকি দুই দেশের উপরও আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি সামরিক সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং অস্ত্রের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর কথা রয়েছে।

চুক্তির সব শর্ত অবশ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তুরস্কের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আত্মরক্ষার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে। সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার, প্রশিক্ষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মতো বিষয়ও এই সহযোগিতার অংশ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছিল। সেই সমঝোতাতেও এক দেশের উপর আগ্রাসনকে দুই দেশের উপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছিল। ফলে মক্কার নতুন চুক্তিকে সেই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতারই বিস্তৃত রূপ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

এই জোটের পিছনে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। ইরান সংঘাতের জেরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। হরমুজ় প্রণালী এবং বাব এল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে রিয়াধ নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।

পাকিস্তানের হিসাবও আলাদা। ভারতের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ইসলামাবাদ সৌদি আরবের আর্থিক ক্ষমতা ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সুবিধা নিতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। তুরস্ক সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নৌপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে যথেষ্ট শক্তিশালী করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের দিকেও নজর রয়েছে। মক্কা চুক্তির আগে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফোনে কথা হয়েছে। এর ফলে ভারত ও ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেতানিয়াহুর তরফে ভারত, ইজ়রায়েল, গ্রিস, সাইপ্রাস ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে নিয়ে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি বৃহত্তর কাঠামোর ভাবনা সামনে এসেছিল। ভবিষ্যতে আফ্রিকার কোনও দেশকেও এর সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

তবে এই প্রস্তাবিত ‘ষড়ভুজ জোট’ যে সরাসরি কোনও সামরিক জোটে পরিণত হবে, এমনটা নিশ্চিত নয়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যৌথ ভাবে অস্ত্র তৈরি, জরুরি পরিস্থিতিতে অস্ত্র সরবরাহ এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মতো ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক ও সামরিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এই চুক্তি ভবিষ্যতে কতটা বিস্তৃত হবে এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারত-ইজ়রায়েল-সহ অন্য দেশগুলি কী পদক্ষেপ করবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *