দিশা পটানী কাণ্ডে গ্রেফতার বিশ্নোই-ঘনিষ্ঠ!
গত বছরের এক ভয়াবহ রাতের ঘটনার তদন্তে এ বার বড় সাফল্য পেল পুলিশ। অভিনেত্রী দিশা পটানীর বাড়ির সামনে গুলিচালনার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার চক্রের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে। এই গ্রেফতারির পর মামলায় নতুন মোড় এসেছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
কী ঘটেছিল সেই রাতে
২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশের বরেলী-তে দিশার বাড়িকে লক্ষ্য করে আচমকা গুলি চালায় দুই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রায় ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
পরবর্তীতে এই হামলার দায় স্বীকার করে কুখ্যাত গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রার। তাদের দাবি ছিল, দিশার দিদি খুশবু পটানী নাকি ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন— সেই কারণেই এই হামলা।
নতুন গ্রেফতারি, তদন্তে বড় অগ্রগতি
এ বার দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করেছে লরেন্স বিশ্নোই-ঘনিষ্ঠ মেহফুজ় ওরফে ববি কবুতরকে। দিল্লি-গুরগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, উত্তর-পূর্ব দিল্লি থেকেই এই হামলার পুরো পরিকল্পনা পরিচালনা করছিল ববি। যদিও সে নিজে গুলি চালায়নি, তবে হামলাকারীদের অস্ত্র জোগাড় করে দিয়েছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রগুলির বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আনা হয়েছিল।
ববি শুধু এই মামলাতেই নয়, একাধিক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনাতেও অভিযুক্ত। নাদিম ব্রাদার্স হত্যাকাণ্ডেও তার নাম জড়িয়েছিল। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
সরকারের প্রতিশ্রুতি ও আগের পদক্ষেপ
ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আশ্বাস দিয়েছিলেন, দুষ্কৃতীদের ছাড়া হবে না। সেই অনুযায়ী ইতিমধ্যেই পুলিশের এনকাউন্টারে দুই অভিযুক্ত নিহত হয়েছে এবং আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
এই ঘটনার পর দিশার পরিবারকে ব্যক্তিগত ভাবে ফোন করে নিরাপত্তার আশ্বাসও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তদন্তে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রেফতারি
পুলিশের মতে, ববির গ্রেফতারি এই মামলার “কী টার্নিং পয়েন্ট” হতে পারে। কারণ, সে গ্যাংয়ের অস্ত্র সরবরাহ এবং হামলার লজিস্টিক পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, তার জেরা থেকে হামলার মূল চক্র এবং আরও বড় অপরাধচক্রের তথ্য সামনে আসতে পারে।
একটি ভয়াবহ রাতের আতঙ্ক এখন ধীরে ধীরে আইনি পরিসমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে— আর এই গ্রেফতারি সেই পথেই বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই