রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি পীযূষ পাণ্ডে!
রাজ্য পুলিশের শীর্ষস্তরে বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবে পীযূষ পাণ্ডের নাম ঘোষণা করা হল। পাশাপাশি কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার হচ্ছেন সুপ্রতিম সরকার। শুক্রবার নবান্ন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বদলির কথা জানানো হয়েছে।
এই রদবদল শুধু ডিজি বা কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের বিভিন্ন কমিশনারেট, রেঞ্জ ও বিশেষ শাখার শীর্ষ পুলিশকর্তাদের দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন ডিজি (অগ্নি), ডিজি (হোমগার্ড), একাধিক এডিজি ও ডিআইজি পদে থাকা আধিকারিকরা।
কলকাতা পুলিশের বর্তমান কমিশনার মনোজ বর্মাকে সরিয়ে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এবার ‘ডিরেক্টর, সিকিউরিটি’ পদে কাজ করবেন। অন্য দিকে, এত দিন এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) থাকা সুপ্রতিম সরকারকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে— যা শহরের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।
আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বদলির মধ্যে, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিমকে সরিয়ে তাঁকে এডিজি (এসটিএফ) করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদে ফিরলেন কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার বিনীত গোয়েল। আরজি কর কাণ্ডের পরে বিনীতকে এসটিএফ-এর দায়িত্বে আনা হয়েছিল।
গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্য পুলিশের ডিজি পদ ঘিরে টানাপড়েন চলছিল। বর্তমানে রাজ্যে কোনও স্থায়ী ডিজি নেই। রাজীব কুমার ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন এবং তাঁর অবসর নির্ধারিত ছিল ৩১ জানুয়ারি। সেই প্রেক্ষিতেই নবান্ন আগেভাগেই ভারপ্রাপ্ত ডিজি বদলের সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি স্থায়ী ডিজি নিয়োগের জন্য একটি নামের তালিকাও কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিজি পীযূষ পাণ্ডে ১৯৯৩ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ডিরেক্টর, সিকিউরিটি থেকে শুরু করে এডিজি (ট্রাফিক) এবং এডিজি (কারা)— একাধিক দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন তিনি।
এ ছাড়াও, অনুজ শর্মাকে ডিজি (অগ্নি), সিদ্ধনাথ গুপ্তকে ডিজি (কারা) এবং নটরাজন রমেশবাবুকে ডিজি (হোমগার্ড) করা হয়েছে। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠীকে ব্যারাকপুরের সিপি হিসেবে পাঠানো হয়েছে, তাঁর জায়গায় হাওড়ায় আসছেন আকাশ মেঘেরিয়া। ব্যারাকপুরের সিপি মুরলীধরকে আনা হয়েছে বিধাননগরে।
আরও বদলের মধ্যে, বিধাননগরের সিপি মুকেশকে মুর্শিদাবাদ-জঙ্গিপুর রেঞ্জের আইজি করা হয়েছে। চন্দননগরের সিপি অমিত পি জাভালগিকে বর্ধমান রেঞ্জের আইজি হিসেবে পাঠানো হয়েছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার কোটেশ্বর রাও দায়িত্ব নিচ্ছেন চন্দননগরের। অলোক রাজোরিয়াকে বারাসতের ডিআইজি এবং ভাস্কর মুখোপাধ্যায়কে প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই রদবদল রাজ্য পুলিশের প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন ভারসাম্য আনবে বলেই মনে করছে নবান্ন। এখন নজর, এই পরিবর্তনের প্রভাব রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক তৎপরতায় কীভাবে পড়ে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা