পৃথিবীর সমুদ্রের জল এল কোথা থেকে? চাঁদের মাটি ঘেঁটে বিজ্ঞানীদের নতুন ইঙ্গিত

পৃথিবীর সমুদ্রের জল এল কোথা থেকে? পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে থাকা বিশাল সমুদ্র আর মহাসাগর দেখলে একটা প্রশ্ন প্রায় সবার মনেই আসে— এত বিপুল জল এল কোথা থেকে? বহু বছর ধরে…

January 27, 2026
1 min read

পৃথিবীর সমুদ্রের জল এল কোথা থেকে?

পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে থাকা বিশাল সমুদ্র আর মহাসাগর দেখলে একটা প্রশ্ন প্রায় সবার মনেই আসে— এত বিপুল জল এল কোথা থেকে? বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করতেন, চাঁদ থেকে ছুটে আসা জলভরা উল্কার আঘাতেই ধীরে ধীরে পৃথিবীর সাগর-মহাসাগর তৈরি হয়েছে। কিন্তু নাসার সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই ধারণায় খানিকটা সংশোধনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের বিজ্ঞানী টনি গারগানো। তাঁদের কাজ প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান জগতের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ জার্নাল Proceedings of the National Academy of Sciences-এ। গবেষণার মূল চাবিকাঠি— চাঁদের মাটি, যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘রেগোলিথ’।

পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, ভূত্বকের সরে যাওয়া— এই সব কারণে শিলার গঠন বদলায়। কিন্তু চাঁদে সেই ধরনের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে কোটি কোটি বছর আগের মাটি ও শিলা আজও চাঁদের বুকে প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়ে গেছে। এই কারণেই চাঁদের রেগোলিথ কার্যত সৌরজগতের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।

টনি গারগানো এবং তাঁর সহকর্মীরা সেই রেগোলিথের অক্সিজেন আইসোটোপ বিশ্লেষণ করেন। শিলার মধ্যে থাকা অক্সিজেন উল্কা আঘাতের পরও থেকে যায়, আর সেখান থেকেই বোঝা যায় ওই শিলার উৎস ও গঠন। গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের রেগোলিথের মাত্র প্রায় এক শতাংশ অংশে রয়েছে কার্বনসমৃদ্ধ উল্কার উপাদান— যেগুলির সঙ্গে জল বহনের সম্ভাবনা ছিল।

এর পর বিজ্ঞানীরা খতিয়ে দেখেন, এই ধরনের শিলা আসলে কতটা জল ধরে রাখতে পারে। ফলাফল বেশ চমকপ্রদ। দেখা যায়, ওই শিলাগুলির জলধারণ ক্ষমতা খুবই সীমিত। এতটাই কম যে, শুধু এই উল্কার জলে পৃথিবীর বিশাল সমুদ্র ও মহাসাগর ভরে ওঠা সম্ভব নয়। অর্থাৎ, চাঁদ থেকে আসা উল্কা পৃথিবীর জলে সামান্য অবদান রাখলেও, সেটাই একমাত্র উৎস— এমনটা বলা যাচ্ছে না।

তবে এর মানে এই নয় যে চাঁদে জল নেই। বিজ্ঞানীদের ধারণা, রেগোলিথে থাকা জল মূলত চাঁদেই আটকে রয়েছে। বিশেষ করে চাঁদের মেরু অঞ্চল, যেখানে সূর্যের আলো কখনও পৌঁছয় না, সেখানে বরফ বা জলের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা প্রবল। প্রায় ৫০ বছর আগে অ্যাপোলো অভিযানের সময় যে রেগোলিথ সংগ্রহ করা হয়েছিল, আজও তা নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছে গবেষকদের।

তবুও এখানেই শেষ কথা নয়। গবেষকদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে চাঁদের একটি নির্দিষ্ট এলাকার রেগোলিথ নিয়ে। চাঁদের অন্য অঞ্চলের মাটিতে কী লুকিয়ে রয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তাই চাঁদ থেকে আসা উল্কারা পৃথিবীর জলের ক্ষেত্রে কতটা ভূমিকা রেখেছে— সে প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর পেতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, এই গবেষণা একটাই কথা বলছে— পৃথিবীর সমুদ্রের জন্মকথা একমাত্র কোনও এক উৎসে বাঁধা নয়। মহাকাশের নানা প্রক্রিয়া, গ্রহের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক পরিবর্তন এবং বহিরাগত উল্কার সম্মিলিত প্রভাবেই হয়তো নীল গ্রহের এই জলভরা ইতিহাস গড়ে উঠেছে।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Latest Government Jobs 2026 – Notifications, Exams & Vacancies

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *