দেশু ৭!
টলিপাড়ায় যে গুঞ্জন কয়েক দিন ধরেই ঘুরছিল, সোমবার তা আর গোপন থাকল না। সরাসরি লাইভে বসেই দেব জানিয়ে দিলেন— তিনি চান, ‘দেশু ৭’-এ অনির্বাণ ভট্টাচার্য কাজ করুন। যাঁকে টালিগঞ্জে অলিখিত ভাবে ‘নিষিদ্ধ’ অভিনেতা বলেই চিহ্নিত করা হয়, সেই অনির্বাণকেই নিজের ছবিতে দেখতে চান দেব— এ কথা আর ঘুরিয়ে বললেন না অভিনেতা-সাংসদ।
রবিবার পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল অন্যরকম। তখন দেব নিজেই বলেছিলেন, অনির্বাণকে নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু সোমবার শুভশ্রীর সঙ্গে ফেসবুক লাইভে বসেই তিনি সোজাসুজি জানিয়ে দিলেন, অনির্বাণকে তিনি তাঁর আগামী ছবিতে চান। মুহূর্তের মধ্যেই সেই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে টলিপাড়ায়।
এর আগেই আনন্দবাজার ডট কম প্রথম জানিয়েছিল, ‘দেশু’ সিরিজ়ের পরের ছবিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অনির্বাণকে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন দেব। সেই সঙ্গে উঠে এসেছিল আরও বড় প্রসঙ্গ— টালিগঞ্জে স্বরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন ফেডারেশনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে নামতে চলেছেন দেব। যদিও সেই খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন মহল থেকে তা অস্বীকারের চেষ্টা করা হয়।
গত শুক্রবার স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকের পর দেব বলেছিলেন, “এমন কোনও কথা হয়নি। তবে খবর বেরোনোর পর থেকে ভাবছি, অনির্বাণকে নিলে খারাপ হবে না।” তখনই তিনি জানান, প্রয়োজনে অনির্বাণের হয়ে অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে ক্ষমা চাইতেও তিনি রাজি। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপও তিনি চান।
এই বক্তব্যের পরেই টলিপাড়ার হেভিওয়েটরা একে একে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, পরিচালক রাজ চক্রবর্তী— সবাই আলাদা আলাদা ভাবে অনির্বাণ প্রসঙ্গে মত জানান। তার পর শনিবার ও রবিবার কেটেছে টানটান অপেক্ষায়। জানা যায়, সোমবার দেব ও শুভশ্রী লাইভে এসে বিশেষ ঘোষণা করবেন।
সেই ‘চমক’ই ছিল অনির্বাণের ‘দেশু ৭’-এ অভিনয় করা নিয়ে দেবের চূড়ান্ত অবস্থান। তবে বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে সেই ঘোষণা আর চমক হয়ে থাকল না— বরং আনন্দবাজার ডট কম-এর আগের খবরেই পড়ে গেল বাস্তবতার সিলমোহর।
দেবের এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি কাস্টিং ঘোষণাই নয়, বরং টালিগঞ্জের বহুদিনের অচলাবস্থার বিরুদ্ধে এক স্পষ্ট বার্তা বলেই দেখছেন অনেকে। অনির্বাণের মতো শক্তিশালী অভিনেতাকে আবার মূলধারার ছবিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা— দেবের এই অবস্থান তাঁকে আলাদা জায়গায় এনে দিচ্ছে বলেও মত ইন্ডাস্ট্রির একাংশের।
সব মিলিয়ে, ‘দেশু ৭’ এখন শুধু একটি সিনেমা নয়, টলিপাড়ার রাজনীতির মধ্যেও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অনির্বাণ শেষ পর্যন্ত ছবিতে থাকেন কি না, তা সময়ই বলবে। তবে দেব যে তাঁকে চান— সে কথা আর কোনও সন্দেহের জায়গা রাখল না।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা