রাতের আকাশে ড্রোন, মাটিতে স্যাটেলাইট ফোনের সঙ্কেত—উপত্যকায় কি বড়সড় কিছু ঘটার ইঙ্গিত?

রাতের আকাশে ড্রোন! জম্মু ও কাশ্মীরের আকাশে রবিবার সন্ধ্যা নামতেই অস্বস্তির ছায়া। মাত্র ৫০ মিনিটের ব্যবধানে চারটি সন্দেহজনক ড্রোন উড়তে দেখা গিয়েছে উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তে। তার আগের রাতেই আবার ধরা…

January 12, 2026
1 min read

রাতের আকাশে ড্রোন!

জম্মু ও কাশ্মীরের আকাশে রবিবার সন্ধ্যা নামতেই অস্বস্তির ছায়া। মাত্র ৫০ মিনিটের ব্যবধানে চারটি সন্দেহজনক ড্রোন উড়তে দেখা গিয়েছে উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তে। তার আগের রাতেই আবার ধরা পড়ে এক রহস্যময় স্যাটেলাইট ফোনের সঙ্কেত। দুই ঘটনার যোগসূত্র খুঁজতে এখন তৎপর নিরাপত্তা বাহিনী। প্রশ্ন উঠছে—কাশ্মীরকে ঘিরে কি নতুন কোনও ছক কষা হচ্ছে?

রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিট থেকে ৭টা ১৫ মিনিট—এই অল্প সময়ের মধ্যেই ড্রোনগুলির গতিবিধি নজরে আসে। প্রথম ড্রোনটি দেখা যায় মানকোট সেক্টরে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেটি পাকিস্তানের দিক থেকেই নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে আসে। কিছু ক্ষণের মধ্যেই দ্বিতীয় ড্রোনের দেখা মেলে খাব্বার গ্রাম এলাকায়, সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট নাগাদ।

এই সময়েই কালাকোট থেকে উধমপুরের ভারাখের দিকে আকাশে একটি অদ্ভুত আলো জ্বলতে-নিভতে দেখা যায়। কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্য চোখের পলকেই মিলিয়ে যায়, কিন্তু সন্দেহ রেখে যায় অনেক প্রশ্ন। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারণা, সেটিও কোনও ড্রোন বা নজরদারি যন্ত্র হতে পারে।

সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের খবর অনুযায়ী, একই সময় রাজৌরির নৌসেরা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর আরও একটি ড্রোন শনাক্ত করেন জওয়ানেরা। সঙ্গে সঙ্গে মেশিনগান থেকে গুলি চালানো হয়। শেষ ড্রোনটির দেখা মেলে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ রামগড় সেক্টর-এর চক বাব্রাল গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক মিনিট ধরে গ্রামটির উপর চক্কর কাটছিল সেটি।

ড্রোনের এই তৎপরতার আগে আরও একটি ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। শনিবার গভীর রাতে, ঘড়িতে তখন সাড়ে তিনটে, কানাচক থানা এলাকায় ধরা পড়ে একটি স্যাটেলাইট ফোনের সঙ্কেত। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার দূরে এই জায়গাটি। জম্মু শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এই সঙ্কেত পাওয়া যেতেই গোয়েন্দা মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, স্যাটেলাইট ফোন সাধারণত জঙ্গি যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়, কারণ তা সহজে ট্র্যাক করা যায় না। তার ঠিক পরের দিন সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোনের অনুপ্রবেশ—এই দু’টি ঘটনাকে আলাদা করে দেখছেন না তাঁরা।

এই পরিস্থিতিতে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, বিএসএফ, ভারতীয় সেনা এবং এসওজি যৌথ ভাবে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। নিয়ন্ত্রণরেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ড্রোনগুলির কোনও ধ্বংসাবশেষ বা স্পষ্ট হদিস মেলেনি। তবে উপত্যকার আকাশ আর মাটিতে যে অস্বাভাবিক নড়াচড়া চলছে, তা নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী একেবারেই নিশ্চিন্ত নয়।

ভিন্‌রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *