সীমান্তে ফের রহস্যময় ড্রোন, ফিরছে পুরনো ক্ষতের স্মৃতি!
রবিবার সন্ধ্যা নামতেই অস্বস্তির ছায়া নেমে আসে জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে। বিভিন্ন সময়ে আকাশে ভেসে ওঠে একাধিক রহস্যময় ড্রোন—যেগুলি নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ঢুকে পড়ে ভারতের ভূখণ্ডে। সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রাথমিক অনুমান, ড্রোনগুলি এসেছে পাকিস্তান-এর দিক থেকেই। এই দৃশ্য অনেকের মনেই উস্কে দিয়েছে অতীতের স্মৃতি—বিশেষ করে ‘সিঁদুর অভিযান’-এর সময় দেখা সেই অজানা উড়ন্ত যন্ত্রগুলির কথা।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট নাগাদ নওশেরা সেক্টরে ভারতের আকাশে গানিয়া-কালসন গ্রামের দিকে একটি ড্রোনকে চক্কর কাটতে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হয়ে ওঠেন জওয়ানেরা। লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। প্রায় একই সময়ে রাজৌরি জেলার তেরয়াট এলাকায় খাব্বার গ্রামের দিকেও একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়, যা কালাকোটের ধর্মসাল গ্রাম সংলগ্ন দিক থেকে আসছিল বলে ধারণা।
এর পর সন্ধ্যা সওয়া ৭টা নাগাদ সাম্বা জেলার রামগড় সেক্টরের চক বাবরাল গ্রামেও কিছু ক্ষণের জন্য আকাশে একটি সন্দেহজনক উড়ন্ত বস্তুর উপস্থিতি নজরে আসে। পুঞ্চ জেলাতেও নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটের কাছাকাছি একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। একের পর এক জায়গায় এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি সীমান্তবাসী এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে পাক পোস্ট রয়েছে বলেই ড্রোন দেখামাত্রই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে বিএসএফ। জওয়ানেরা ড্রোনগুলিকে গুলি করে নামানোর চেষ্টা করেন। তবে বিএসএফের দাবি, গুলির মুখে পড়ে ড্রোনগুলি আবার পাক পোস্টের দিকেই ফিরে যেতে দেখা গিয়েছে। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে সেনা ও পুলিশের যৌথ বাহিনী এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে। সীমান্তলাগোয়া গ্রামগুলিতে জারি করা হয়েছে সতর্কতা।
এখনও পর্যন্ত কোনও ড্রোন উদ্ধার করা যায়নি। তবে নিরাপত্তা সূত্রের আশঙ্কা, এগুলি অস্ত্র বা মাদক পাচারের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। কারণ অতীতে একাধিক বার এই ধরনের ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র পাঠানোর চেষ্টা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত শুক্রবার সাম্বা সেক্টরে পাকিস্তানের দিক থেকে আসা একটি ড্রোন থেকে উদ্ধার হয়েছিল দু’টি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজ়িন এবং একটি গ্রেনেড।
বারবার এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। সন্ধ্যার আকাশে ভেসে ওঠা এই অজানা যন্ত্রগুলি শুধু প্রযুক্তিগত হুমকি নয়, বরং সীমান্তের মানুষের মনে ফিরিয়ে আনছে অস্থিরতা আর পুরনো ক্ষতের স্মৃতি।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি