সমুদ্রের তলা থেকে আকাশে হামলা: ‘টু-ইন-ওয়ান’ সুপার ড্রোনে বিশ্বকে চমকে দিল আমেরিকা

সমুদ্রের তলা থেকে আকাশে হামলা! নৌযুদ্ধের ধারণাই বদলে দিতে পারে এমন এক অভিনব অস্ত্র সামনে আনল লকহিড মার্টিন। সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থেকে টর্পেডো ছোড়া, আবার সুযোগ বুঝে জলের ওপর উঠে…

February 16, 2026
1 min read

সমুদ্রের তলা থেকে আকাশে হামলা!

নৌযুদ্ধের ধারণাই বদলে দিতে পারে এমন এক অভিনব অস্ত্র সামনে আনল লকহিড মার্টিন। সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থেকে টর্পেডো ছোড়া, আবার সুযোগ বুঝে জলের ওপর উঠে ড্রোন হামলা— একসঙ্গে এই দুই ক্ষমতাই রয়েছে নতুন প্রজন্মের এই মানববিহীন যানে। প্রতিরক্ষা মহলে ইতিমধ্যেই এটিকে বলা হচ্ছে ‘টু-ইন-ওয়ান ব্রহ্মাস্ত্র’।

এই বিশেষ আন্ডারসি ড্রোনটির নাম মাল্টি-মিশন অটোনোমাস আন্ডারসি ভেহিকেল (MMAUV)। মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য তৈরি এই যন্ত্র সমুদ্রের তলায় দীর্ঘ সময় গোপনে অবস্থান করতে পারে। এমনকি এটি রণতরী বা ডুবোজাহাজের গায়ে পরজীবীর মতো লেগে থেকে নিজেই ব্যাটারি চার্জ করতে পারে— ফলে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি বা হামলার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তির বিপুল ব্যবহার বিশ্বের প্রতিরক্ষা কৌশলকে বদলে দিয়েছে। আগে যেখানে ড্রোন মানেই আকাশযুদ্ধ, এখন তা সমুদ্রের তলায়ও সমান কার্যকর। এই প্রেক্ষাপটেই নতুন অস্ত্র দিয়ে শক্তি প্রদর্শন করল যুক্তরাষ্ট্র।

🔎 কী কী করতে পারে এই সুপার ড্রোন?

এই ড্রোনের ক্ষমতাগুলি সত্যিই নজরকাড়া—

  • টর্পেডো হামলা: জলের তলা থেকেই শত্রু জাহাজে আঘাত হানতে পারে।
  • ড্রোন আক্রমণ: উপরে উঠে আকাশপথে হামলা চালাতে সক্ষম।
  • গুপ্ত নজরদারি: শত্রু অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হবে।
  • চোরাগোপ্তা অবস্থান: দীর্ঘ সময় লুকিয়ে থেকে সুযোগের অপেক্ষা করতে পারে।
  • উইংম্যান ভূমিকা: যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সরবরাহ করতে পারে।

লকহিড মার্টিনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আধুনিক যুদ্ধের চাহিদা মাথায় রেখেই এই অস্ত্রের নকশা করা হয়েছে। এটি সহজে মানিয়ে নিতে পারে বিভিন্ন পরিবেশে এবং একই সঙ্গে আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা— দুই কাজই করতে সক্ষম।

⚔️ রাশিয়ার ‘পোসাইডন’-এর পাল্টা?

এই নতুন ড্রোন সামনে আসার পরই তুলনা শুরু হয়েছে রাশিয়ার সমুদ্রতল অস্ত্র ‘পোসাইডন’-এর সঙ্গে। কয়েক মাস আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছিলেন, তাদের পরমাণু শক্তিচালিত ড্রোন প্রায় সীমাহীন দূরত্বে হামলা চালাতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, দুটি অস্ত্রের উদ্দেশ্য আলাদা। রাশিয়ার ড্রোন মূলত ধ্বংসাত্মক হামলার জন্য তৈরি, কিন্তু মার্কিন ড্রোনটি বহু কাজে ব্যবহারযোগ্য— নজরদারি, গুপ্তচরবৃত্তি, আক্রমণ ও সমন্বিত যুদ্ধ পরিচালনা— সব ক্ষেত্রেই কার্যকর।

🌍 কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তি?

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের নৌযুদ্ধে মানববিহীন আন্ডারসি ড্রোন বড় ভূমিকা নেবে। কারণ এগুলি—

  • কম খরচে পরিচালিত
  • দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকতে সক্ষম
  • মানুষের ঝুঁকি কমায়
  • বৃহৎ এলাকা নজরদারিতে কার্যকর

সব মিলিয়ে, সমুদ্রের গভীর থেকে আকাশ পর্যন্ত যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা থাকা এই নতুন ড্রোনকে অনেকেই নৌযুদ্ধের “গেম-চেঞ্জার” বলছেন। আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির শক্তির সমীকরণেও এই প্রযুক্তির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *