সৌরজোট ছেড়ে শুল্কের চাপে নতুন কৌশল!
আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সেই তালিকায় এ বার যুক্ত হল ভারত-ফ্রান্সের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (আইএসএ)। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠছে— শুধুই নীতিগত অবস্থান বদল, না কি ভারতের উপর চাপ বাড়ানোর নতুন কৌশল?
আইএসএ গঠিত হয়েছিল ২০১৫ সালে, মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বজুড়ে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াই। বিশেষ করে কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির মধ্যবর্তী দেশগুলিতে সৌরশক্তিকে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করে তোলাই ছিল এই জোটের উদ্দেশ্য। বর্তমানে ১২০টিরও বেশি দেশ এই জোটে যুক্ত, যার সদর দফতর ভারতের গুরুগ্রামে। কার্যত, এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছে ভারতই।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই ধরনের বহুপাক্ষিক সংস্থা আমেরিকার ‘জাতীয় স্বার্থ’ রক্ষা করে না। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, করদাতাদের অর্থ এমন সংস্থায় ব্যয় করা যুক্তিযুক্ত নয়, যেগুলি মার্কিন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই যুক্তিতেই আইএসএ-সহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা— যার মধ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জ-অনুমোদিত বহু সংস্থাও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এর প্রভাব শুধু জলবায়ু কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। কারণ, আইএসএ শুধু একটি পরিবেশগত উদ্যোগ নয়— এটি ভারতের বৈশ্বিক নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক প্রভাবেরও প্রতীক। আমেরিকার সরে যাওয়া সেই নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক বাণিজ্য নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ইতিমধ্যেই ভারতের পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে এমনকি ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারিও শোনা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে আইএসএ থেকে বেরিয়ে যাওয়াকে অনেকেই ভারতের উপর কৌশলগত চাপ হিসেবেই দেখছেন।
তবে সব বিশেষজ্ঞ এক মত নন। কারও কারও মতে, আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে বরং আইএসএ-তে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াই যদি ভারত ও অন্য সদস্য দেশগুলি সৌরজোটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তা হলে তা ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই ধরা হবে।
দিল্লির অবস্থান আপাতত সংযত। প্রকাশ্যে কোনও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে নারাজ কেন্দ্র। কারণ, বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এই মুহূর্তে ‘পাল্টা জবাব’ নয়, বরং কূটনৈতিক ধৈর্যই ভারতের অস্ত্র— এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক সৌরজোট থেকে আমেরিকার প্রস্থান নিঃসন্দেহে একটি বড় ধাক্কা। কিন্তু এই ধাক্কা কি ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ, না কি নতুন সুযোগ— তার উত্তর দেবে আগামী দিনের কূটনীতি।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি