সুস্থ হতে কী খাবেন, কী এড়াবেন!
ভাইরাল জ্বরটা কাগজে-কলমে সেরে গেলেও শরীর যেন পুরোপুরি সায় দিচ্ছে না— এই অভিজ্ঞতা এখন অনেকেরই। ঋতু বদলের সময় জ্বর, সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণ বাড়ছে। জ্বর কমে যাওয়ার পরেও ক্লান্তি কাটছে না, হাত-পা ভার লাগে, গা ব্যথা থাকে, গলা এতটাই বসে যায় যে খাবার গিলতে কষ্ট হয়। এই সময় শুধু ওষুধ নয়, রোজের খাবারদাবারের দিকেও একটু যত্ন নিলে সুস্থ হতে অনেকটাই সুবিধা হয়। জ্বরের সময় ও তার পরে কী খাবেন আর কোনগুলো এড়িয়ে চলবেন, সেটাই ঠিক করে দেবে সেরে ওঠার গতি।
জ্বরের সময়ে কী খাবেন?
জ্বর বা অসুস্থতার সময় সবচেয়ে নিরাপদ আর উপকারী খাবার হল হালকা ও তরল পদ। সব্জির স্যুপ বা চিকেন স্যুপ শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়, আবার হজমেও সহজ। চাইলে মুসুর ডালের স্যুপ বানাতে পারেন। ভেজানো ডাল, আদা, পেঁয়াজ, টম্যাটো ও পছন্দের সব্জি একসঙ্গে সেদ্ধ করে নিলেই হবে। অল্প নুন আর গোলমরিচ স্বাদ বাড়াবে, আবার গলা আর শরীর দু’দিকেই আরাম দেবে।
এই সময় ভারী খাবার না খেয়ে ফলের রস বা স্মুদি খাওয়া ভাল। দিনে অন্তত ২–৩ লিটার জল খাওয়ার চেষ্টা করুন। সাধারণ জলে এক কাপ আনারসের টুকরো আর কয়েকটি পুদিনা পাতা ভিজিয়ে রেখে ঘণ্টা দুয়েক পরে সেই জল খেলে শরীর সতেজ থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কিছুটা বাড়বে।
চা-কফির নেশা থাকলেও জ্বরের সময়ে দুধ-চিনি দেওয়া চা বা কফি এড়িয়ে চলাই ভাল। এতে ক্যাফিনের মাত্রা বাড়ে, যা শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে। বদলে গ্রিন টি বা ভেষজ চা খান। তুলসী চা বা দারচিনির চা এই সময় বেশ উপকারী। তুলসী, লেবু আর মধু দিয়ে বানানো চা গলা ব্যথা কমায়, আর দারচিনির চায়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরকে লড়াইয়ের শক্তি জোগায়।
জ্বর কমে যাওয়ার পরে কী খাবেন?
জ্বর নামলেও দুর্বলতা থেকে গেলে ধীরে ধীরে পুষ্টিকর খাবারে ফিরতে হবে। ডাবের জল প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটে ভরপুর— শরীরের জল ও খনিজের ঘাটতি পূরণে দারুণ সাহায্য করে।
প্রোটিন এই সময় খুব জরুরি। ডিমের সাদা অংশ, চর্বি ছাড়া মাছ বা মুরগির মাংস, দুধ-দই, আর নিরামিষ হলে ছোলা, মুসুর ডাল, সয়াবিন ও বাদাম রাখুন খাদ্যতালিকায়। হালকা খিচুড়ি, ডালিয়া বা ওট্স দিয়ে বানানো খাবার হজমে সহজ। ভাতের সঙ্গে পাতলা মাছের ঝোল বা চিকেন স্ট্যুও খেতে পারেন।
গলা ব্যথা বা কাশি থাকলে মধু উপকারী। ঈষদুষ্ণ জলের সঙ্গে মধু মিশিয়ে সকালে খেলে আরাম মিলতে পারে।
কোন খাবারগুলো এড়াবেন?
এই সময়ে অতিরিক্ত মিষ্টি, চকোলেট, আইসক্রিম বা নরম পানীয় একেবারেই নয়। কেটে রাখা ফল, কাঁচা স্যালাড, ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন। চিপ্স, সসেজ, সালামি বা যে কোনও প্যাকেটজাত খাবার শরীরের ক্ষতি করতে পারে। রাস্তার লস্যি বা শরবতও নয়— সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
জ্বরের পরে শরীরকে একটু সময় আর যত্ন দিলে তবেই পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব। খাবারই হতে পারে সেই সুস্থতার সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ পথ।