টানা জ্বর, পেটের সমস্যা—ঘরে ঘরে কী রোগ ছড়াচ্ছে?

টানা জ্বর, পেটের সমস্যা! গরম পড়তেই শরীর খারাপ হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু এ বছর অনেকেই এক অদ্ভুত সমস্যায় ভুগছেন—জ্বর কমছেই না, সঙ্গে লাগাতার পেটের গোলমাল। বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা—সব মিলিয়ে…

April 21, 2026
1 min read

টানা জ্বর, পেটের সমস্যা!

গরম পড়তেই শরীর খারাপ হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু এ বছর অনেকেই এক অদ্ভুত সমস্যায় ভুগছেন—জ্বর কমছেই না, সঙ্গে লাগাতার পেটের গোলমাল। বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ চিন্তার।

চিকিৎসকদের মতে, এর পেছনে মূলত একাধিক ভাইরাস কাজ করছে—বিশেষ করে অ্যাডিনোভাইরাস, নোরোভাইরাস এবং রোটাভাইরাস। আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আর্দ্রতার কারণে এই ভাইরাসগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

কেন এত সমস্যা হচ্ছে?

এখনকার ভাইরাসগুলো আগের মতো আচরণ করছে না। কিছু ক্ষেত্রে মিউটেশন বা পরিবর্তনের ফলে এগুলো আরও সংক্রামক হয়ে উঠেছে। ফলে—

  • জ্বর ১০–১৫ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে
  • পেটের সমস্যা দীর্ঘ সময় ধরে থাকছে
  • বমি ও ডায়রিয়া থামতে দেরি হচ্ছে

বিশেষ করে নোরোভাইরাস শরীরে ঢুকলে অন্ত্রে প্রদাহ তৈরি করে। এর ফলে হঠাৎ বমি, পাতলা পায়খানা, দুর্বলতা দেখা দেয়। আবার রোটাভাইরাস ছোটদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ—পাঁচ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন মারাত্মক হতে পারে।

কীভাবে ছড়াচ্ছে?

এই সংক্রমণ ছড়ানোর প্রধান কারণ—

  • দূষিত খাবার ও জল
  • অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ
  • হাত না ধুয়ে খাবার খাওয়া
  • আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ

একই থালা-বাসন ব্যবহার করলেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এমনকি দরজার হ্যান্ডল বা মোবাইলের মতো জিনিস থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে।

কী কী লক্ষণ দেখবেন?

  • টানা জ্বর
  • বারবার বমি
  • ডায়রিয়া
  • পেটব্যথা
  • মাথা ঘোরা, দুর্বলতা
  • শরীরে জলশূন্যতা

কিছু ক্ষেত্রে রক্ত আমাশয় বা শ্বাসকষ্টও হতে পারে, যা গুরুতর লক্ষণ।

কীভাবে সাবধানে থাকবেন?

এই সময় একটু সচেতন হলেই অনেকটা ঝুঁকি কমানো যায়—

  • বাইরে রাস্তার খাবার, শরবত বা কাটা ফল এড়িয়ে চলুন
  • খাবার আগে ও বাইরে থেকে এসে হাত ভাল করে ধুয়ে নিন
  • ফল-সবজি ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করুন
  • বাসি খাবার বা ফ্রিজে রাখা পুরনো খাবার না খাওয়াই ভালো
  • বাড়িতে কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে আলাদা রাখুন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। কারণ ভাইরাসজনিত রোগে এগুলো কাজ করে না। বরং পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

  • জ্বর ৪–৫ দিনের বেশি থাকলে
  • বমি বা ডায়রিয়া না থামলে
  • শরীর দুর্বল হয়ে পড়লে বা মাথা ঘোরালে

প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে স্যালাইন বা হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রয়োজন হতে পারে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *