বক্স অফিসে রণবীর-ঝড়
প্রচারের ঢাকঢোল খুব একটা শোনা যায়নি। মুক্তির আগেও ছবিটা নিয়ে হইচই ছিল সীমিত। কিন্তু পর্দায় আসার পর যেন সব হিসেব ওলটপালট করে দিল আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’। একের পর এক রেকর্ড ভাঙতে ভাঙতে এবার ছবিটি ছাপিয়ে গেল আমির খানের ঐতিহাসিক ব্লকবাস্টার ‘দঙ্গল’-কেও। মুক্তির মাত্র দ্বাদশ দিনেই!
ভারতের বক্স অফিসে ‘দঙ্গল’ যে ৩৮৭ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল, তা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল এক শক্তপোক্ত মাইলফলক। সেই রেকর্ডই মঙ্গলবার ভেঙে দিল ‘ধুরন্ধর’। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, ছবিটি দেশে ইতিমধ্যেই ৪০০ কোটির বেশি আয় করে ফেলেছে। বলিউডে এমন সাফল্য যে কোনও ছবির জন্যই ঈর্ষণীয়।
এখানেই শেষ নয়। রণবীর কপূরের জনপ্রিয় ছবি ‘সঞ্জু’-র রেকর্ডও টপকে গিয়েছে ‘ধুরন্ধর’। ‘সঞ্জু’ যেখানে ভারতের বক্স অফিসে ৩৪২ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল, সেখানে রণবীর সিংহ অভিনীত এই ছবিটি অনেক আগেই সেই গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। এর আগে ‘পুষ্পা ২’ ও ‘ছাওয়া’-র মতো ছবির রেকর্ডও ভেঙেছিল ‘ধুরন্ধর’।
তবে প্রশ্ন উঠছেই—এ বার কি আরও বড় নামগুলোকেও ছুঁয়ে ফেলবে এই ছবি? এখনও পর্যন্ত ভারতের সর্বোচ্চ আয়কারী ছবির তালিকায় ‘ধুরন্ধর’-এর উপরে রয়েছে ‘জওয়ান’, ‘স্ত্রী ২’, ‘অ্যানিম্যাল’, ‘পাঠান’ এবং ‘গদর ২’। সংখ্যার হিসেবে এগিয়ে রয়েছে শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’ (৬৪৩.৮৭ কোটি) এবং ‘স্ত্রী ২’ (৬২৭ কোটি)। তার পরেই রয়েছে ‘অ্যানিম্যাল’ (৫৫৬.৩৬ কোটি), ‘পাঠান’ (৫৪৩.০৫ কোটি) ও ‘গদর ২’ (৫২৫.৪৫ কোটি)।
রণবীর সিংহের অনুরাগীরা কিন্তু আশাবাদী। তাঁদের ধারণা, ছবির গতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে এই তালিকাও খুব দূরের নয়। সপ্তাহান্তে ভিড়, পুনরায় দর্শক টানা, আর সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা—সব মিলিয়ে ছবিটির জোয়ার এখনও থামার লক্ষণ নেই।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও কম হয়নি। ছবিটিকে কেউ কেউ ‘প্রোপাগান্ডা’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। অতিরিক্ত হিংসার দৃশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু বক্স অফিস বলছে অন্য কথা—এই সব বিতর্ক ছবির আয়কে একটুও ধাক্কা দিতে পারেনি।
উল্টো, এই ছবির হাত ধরেই রণবীর সিংহ নিজেরই আগের সাফল্য ‘সিম্বা’ ও ‘পদ্মাবত’-এর রেকর্ড ভেঙেছেন। অভিনেতা হিসেবে তাঁর কেরিয়ারের এটি নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘ধুরন্ধর’ এখন আর শুধু একটি সফল ছবি নয়—এটি এক চলমান ঘটনা। প্রশ্ন শুধু একটাই: এই দৌড় শেষ হবে কোথায়? ‘দঙ্গল’ পেরোনো হয়ে গিয়েছে, এবার কি ‘জওয়ান’ আর ‘অ্যানিম্যাল’-এর পালা? সময়ই দেবে উত্তর।