‘ধুরন্ধর’ ঘিরে নতুন বিতর্ক!
আদিত্য ধর পরিচালিত হিন্দি ছবি ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির পর থেকেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ভারত-পাকিস্তান গুপ্তচরবৃত্তির পুরনো বিতর্ক। ছবিতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক গোপন অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। আর সেই কাহিনিই বাস্তবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে শুরু করেছেন অনেক দর্শক।
গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে একাধিক কুখ্যাত জঙ্গি ও চরমপন্থী নেতাকে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের গুলিতে নিহত হতে দেখা গিয়েছে। করাচি, লাহৌর, রাওয়ালপিন্ডি বা পেশোয়ার— বিভিন্ন জায়গায় প্রায় একই ধরনের হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই হত্যাকাণ্ডগুলির পিছনে কি কোনও সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা অভিযান রয়েছে?
এই জল্পনাকে আরও উসকে দেয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর একটি প্রতিবেদন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাকিস্তানে বহু সন্ত্রাসবাদী নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ভারতের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও সরকারি প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং ভারত সরকারও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, হামলাকারীরা সরাসরি ভারতীয় এজেন্ট নাও হতে পারেন। বরং স্থানীয় স্তরে গড়ে ওঠা গোপন নেটওয়ার্ক বা ‘স্লিপার সেল’-এর মাধ্যমে এই ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে। পাকিস্তানের কিছু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞও একই ধরনের আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তবে এসবই মূলত গোয়েন্দা সূত্রনির্ভর দাবি, যার স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর ভারত তার নিরাপত্তা নীতিতে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্তের বাইরে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি স্তরে নয়াদিল্লি কখনও এ ধরনের অভিযানের দায় স্বীকার করেনি।
অন্য দিকে, ভারতের গোয়েন্দা ইতিহাসে পাকিস্তানে গোপনে কাজ করার কিছু পরিচিত উদাহরণ রয়েছে। ‘ব্ল্যাক টাইগার’ নামে পরিচিত রবীন্দ্র কৌশিক বহু বছর পাকিস্তানে ছদ্মবেশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। একই ভাবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের অতীত কার্যকলাপ নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। যদিও এসব তথ্যের অনেকটাই সরকারি নথিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়।
‘ধুরন্ধর’ ছবির সাফল্যের পর বাস্তব ও কল্পনার সীমারেখা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানে জঙ্গি নেতাদের রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যে সত্যিই কোনও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা অভিযান কাজ করছে কি না, তার নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনও মেলেনি। তবে এই ঘটনাগুলি যে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা রাজনীতিকে ঘিরে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে, তা বলাই যায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?