পাক প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের কড়া জবাব
রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার মঞ্চে ফের একবার কাশ্মীর ইস্যু তুলে বিতর্ক উসকে দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন, কাশ্মীরের জনগণের উপর নাকি “অত্যাচার” চলছে। কিন্তু তাঁর এই মন্তব্যের জবাব দিতে সময় নিল না নয়াদিল্লি। শনিবার রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের প্রতিনিধি পেটাল গহলৌত কড়া ভাষায় শরিফের বক্তব্যকে ‘অদ্ভুত নাটক’ বলে আখ্যা দেন এবং পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদে মদতদানের ইতিহাস সামনে আনেন।
রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ৮০তম সম্মেলন চলছে আমেরিকার নিউ ইয়র্কে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা সেখানে নিজেদের মতামত তুলে ধরছেন। সেই মঞ্চেই প্রথমে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। কাশ্মীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কাশ্মীরের জনগণকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই, পাকিস্তান তাঁদের পাশে আছে। ভারতের অত্যাচার একদিন বন্ধ হবেই।” এখানেই থেমে থাকেননি শরিফ। সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও ভারতকে কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি, চুক্তি স্থগিত করে ভারত নাকি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
এই বক্তব্যের জবাব দিতে ভারত ‘জবাব দেওয়ার অধিকার’ প্রয়োগ করে। শনিবার রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের কূটনীতিক পেটাল গহলৌত পাকিস্তানের অভিযোগের পাল্টা দিতে গিয়ে বলেন, “আজ সকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই সভায় যে নাটক করেছেন, তা সত্যিই অদ্ভুত। তিনি আবারও সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা করেছেন, যা পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু কোনও নাটক বা মিথ্যা প্রচার কখনও সত্যকে ঢেকে রাখতে পারবে না।”
ভারতের প্রতিনিধি এখানেই থামেননি। তিনি পাকিস্তানের পুরনো ভূমিকা মনে করিয়ে দেন পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে। বলেন, “এটাই সেই পাকিস্তান, যারা গত ২৫ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর রাষ্ট্রপুঞ্জে ‘রেজ়িস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নামের পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠীকে আড়াল করতে চেয়েছিল।”
ভারত পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদে মদতদানের দীর্ঘ ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দেয়। গহলৌত বলেন, “এই দেশের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার ইতিহাস বহু পুরনো। ওদের কোনও লজ্জা নেই। বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানেই আশ্রয় পেয়েছিল ওসামা বিন লাদেন। সেই ঘটনাও ভোলা উচিত নয়।”
এইভাবে কাশ্মীর থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ—সবকিছুরই জবাব একে একে দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির বার্তা পরিষ্কার, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তান নিজেই সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে এ বার ভারতের পক্ষ থেকে ভাষণ দেবেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বছর সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। আশা করা হচ্ছে, জয়শঙ্করের ভাষণে ভারতের পক্ষ থেকে আরও কড়া ও স্পষ্ট বার্তা যাবে পাকিস্তান এবং আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে।
কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান বহুবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রতি বারই নয়াদিল্লি সন্ত্রাসবাদের আশ্রয় ও সমর্থনের প্রমাণ তুলে ধরে ইসলামাবাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এবারের রাষ্ট্রপুঞ্জ অধিবেশনেও পরিস্থিতি ভিন্ন কিছু নয়। শরিফের বক্তব্যকে নাটক বলে উড়িয়ে দিয়ে ভারত ফের একবার জানিয়ে দিল, মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে সত্য লুকানো যাবে না।
কাশ্মীরের বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়ন রক্ষায় নয়াদিল্লি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ — এই বার্তাই রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে প্রতিধ্বনিত করল ভারত। পাকিস্তানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়া শুধু কঠোরই নয়, আন্তর্জাতিক সমাজের কাছেও এক শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পাঠাল।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা