স্বস্তিতে পরিচালক রাজর্ষি দে!
প্রায় ছ’মাস ধরে টানা আইনি লড়াই, অভিযোগের পাহাড়, ইন্ডাস্ট্রির সন্দেহ—সব কিছু পেরিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন পরিচালক রাজর্ষি দে। পুজোর আগেই এল সুখবর। কলকাতার আদালত সোমবার স্পষ্ট জানিয়ে দিল, নুসরত জাহানের সই জাল করা বা আর্থিক তছরুপ—দুটি অভিযোগই ভিত্তিহীন। রাজর্ষি এখন মামলার জট থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
মার্চ মাসে পরিচালককে ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। প্রযোজক অরিন্দম ঘোষ এবং অভিনেত্রী-প্রযোজক প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, রাজর্ষি নাকি তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা নিয়ে খরচের কোনও স্বচ্ছ হিসাব দেননি। এমনকি নুসরত জাহানের সই জাল করে নথি বানানোর অভিযোগও ওঠে। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি শিল্পী মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
তখন থেকেই নীরব থেকেছিলেন পরিচালক। কারও অভিযোগের পাল্টা তর্ক না করে ভরসা রেখেছিলেন আইনের উপর। সোমবার হাসি মুখে বললেন, “শুরু থেকেই বলেছিলাম, আমি নির্দোষ। কিন্তু অনেকেই বিশ্বাস করেননি। নানা গুজব ছড়িয়েছিল—আমি নাকি একাধিক নামী শিল্পীর পাওনা টাকা আটকে রেখেছি। আজ প্রমাণিত হল, সবটাই ভুয়ো।”
রাজর্ষির দাবি, আদালত শুধু তাঁকে মুক্তিই দেয়নি, বরং পরিষ্কার করেছে—তিনি কোনও প্রতারণায় যুক্ত নন। তাঁর কথায়, “আমার হয়ে জ়ি বাংলা মামলা লড়েছিল। আইনের চোখে সব স্পষ্ট। আমি জানতাম, সত্যি একদিন জিতবই।”
তবে অভিযোগকারীদের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রযোজক প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রযোজক-পরিচালক দ্বন্দ্বের শুরুটা হয়েছিল ‘ও মন ভ্রমণ’ ছবির শুটিং চলাকালীন। দশ দিনের কাজ শেষ হলেও চার দিন বাকি ছিল। এমন সময় অরিন্দম ও প্রিয়াঙ্কা দাবি করেন, ছবির বাজেট ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা হলেও পরিচালক তাঁদের কাছ থেকে ৮০ লক্ষ টাকার বেশি নিয়ে ফেলেছেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, রাজর্ষি চুক্তির নামে প্রতারণা করেছেন এবং নুসরত জাহানের সই জাল করেছেন।
প্রযোজকরা সে সময় বলেছিলেন, রাজর্ষি তাঁদের জ়ি বাংলা এবং জ়ি টিভির সঙ্গে তাঁর করা একটি চুক্তিপত্র দেখান। তাতে উল্লেখ ছিল, তাঁর মোট ছ’টি ছবি কিনবে চ্যানেল। তার মধ্যে একটি ‘ও মন ভ্রমণ’। চুক্তি অনুযায়ী, ছবির মুক্তির পর ব্যবসা দেখে খরচের ৮৫ শতাংশ ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। ব্যবসা ভালো হলে পুরো খরচ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।
সেই আশ্বাসে প্রযোজকেরা অর্থ লগ্নি শুরু করেন। প্রথমে নগদ ১০ লক্ষ টাকা দেন, পরে কিস্তিতে বাকিটা চেকে। তবে অভিযোগ ছিল, রাজর্ষি নাকি বারবার পুরো টাকাটা একসঙ্গে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এতে সন্দেহ তৈরি হয় প্রযোজকদের মনে। তারা খরচের খুঁটিনাটি জানতে চাইলে পরিচালক নাকি সে তথ্য দিতে অস্বীকার করেন। সেখান থেকেই সম্পর্কের অবনতি, তারপর আইনি মামলা।
কিন্তু ছ’মাস পর আজ চিত্র বদলে গেছে। আদালতের রায়ে পরিষ্কার—অভিযোগগুলি টেকেনি। আর সেই জন্যই পরিচালক রাজর্ষি দে আজ অনেকটা হালকা, অনেকটা নিশ্চিন্ত।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি শুধু এটুকুই যোগ করলেন, “এই ইন্ডাস্ট্রিতে বিশ্বাস হারালে টিকে থাকা কঠিন। আমি শুধু চাই, আমার কাজই যেন আমাকে চেনায়। বাকি সময়ই উত্তর দেবে।”