তিয়ানজিনে পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনে মোদীর কড়া বার্তা: “সন্ত্রাসবাদে মদত মেনে নেওয়া যায় না”

“সন্ত্রাসবাদে মদত মেনে নেওয়া যায় না” চিনের তিয়ানজিন শহরে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের মঞ্চে সোমবার সরব হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও…

September 1, 2025
1 min read

“সন্ত্রাসবাদে মদত মেনে নেওয়া যায় না”

চিনের তিয়ানজিন শহরে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের মঞ্চে সোমবার সরব হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তিনি সন্ত্রাসবাদের মদত নিয়ে কঠোর বার্তা দিলেন। বক্তব্যে সরাসরি আল কায়েদার মতো জঙ্গি সংগঠনের নাম উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সন্ত্রাসবাদ রুখতে বৈশ্বিক লড়াইয়ে কোনও রকম দ্বিচারিতা চলবে না।

মোদীর কথায়, “কিছু দেশ যে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দিচ্ছে, তা কি আমরা মেনে নিতে পারি? সন্ত্রাসবাদ মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এটি শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বের জন্য হুমকি।” তাঁর এই মন্তব্যে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমাজের দায়িত্ববোধ আরও জোরালো করার বার্তা স্পষ্ট।

সোমবারের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-সহ ২০টি দেশের প্রতিনিধি। সম্মেলনের আগে মোদী আলাদা করে কথা বলেন পুতিন এবং জিনপিংয়ের সঙ্গে। এরপর মূল অধিবেশনে উঠে আসে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, একদিকে যখন বহু দেশ সন্ত্রাস দমনে সচেষ্ট, তখন কিছু রাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থন আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য বড় বিপদ।

এসসিও সম্মেলনের মঞ্চে এই সোজাসাপ্টা বক্তব্যে পাকিস্তানের প্রতি ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হলো। দীর্ঘদিন ধরে ভারত পাকিস্তানকে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগ জানিয়ে আসছে। তাই পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনেই মোদীর এই কড়া বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ।

মোদী আরও বলেন, “সন্ত্রাসবাদ কেবল মানুষের প্রাণ নিচ্ছে না, সমাজের উন্নয়ন থামিয়ে দিচ্ছে। এই লড়াইয়ে আমাদের একসঙ্গে এগোতে হবে। দ্বিচারিতা নয়, প্রয়োজন একযোগে পদক্ষেপ।” তাঁর মতে, সন্ত্রাসবাদের মূলোচ্ছেদ ছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলির অগ্রগতি সম্ভব নয়।

এছাড়া তিনি এসসিও দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার ওপরও জোর দেন। সন্ত্রাস দমনে গোয়েন্দা তথ্যের বিনিময় এবং সাইবার জঙ্গিবাদ ঠেকাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য রাষ্ট্রনেতারাও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এই বক্তব্যের পটভূমিতে উল্লেখযোগ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি সংগঠনগুলির সক্রিয়তা বেড়েছে। ভারত বহুবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাবি করেছে যে, সন্ত্রাসবাদ কোনও দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি। তিয়ানজিনে মোদীর বক্তব্য সেই অবস্থানকেই আরও শক্তিশালী করল।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকা অবস্থায় ভারতের এই দৃঢ় বার্তা একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে ভারতের অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের উপর চাপও বাড়িয়েছে।

এসসিও সম্মেলন সাধারণত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার মঞ্চ হলেও এইবার সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মোদীর বক্তব্যে বোঝা গেল, ভারত এই ইস্যুতে কোনও ছাড় দিতে রাজি নয় এবং বিশ্বশান্তির স্বার্থে সন্ত্রাসবাদ দমনে বৈশ্বিক ঐক্য গড়ে তোলার বার্তাই দিতে চায়।

তিয়ানজিনের এই সম্মেলন তাই শুধু আঞ্চলিক কূটনীতির মঞ্চ নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় অবস্থানের এক জোরালো প্রতীক হিসেবেও চিহ্নিত হলো।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *