মোদী, পুতিন ও জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠতায় কূটনৈতিক বার্তা
চিনের তিয়ানজিন শহরে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের আগে বিরল দৃশ্যের সাক্ষী রইল বিশ্ব। এক ফ্রেমে দেখা গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে। তিন নেতাকে সম্মেলনের মঞ্চে ওঠার আগে হালকা আড্ডা দিতে দেখা যায়। হাসি-ঠাট্টার মুহূর্তের সেই ছবি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন মোদী।
রবিবারই চিনে পৌঁছেছিলেন পুতিন। সোমবার এসসিও সম্মেলনের মঞ্চে মোদীর সঙ্গে দেখা হতেই উষ্ণ আলিঙ্গনে স্বাগত জানান রুশ প্রেসিডেন্ট। তারপর কথা বলতে বলতে তারা মঞ্চের দিকে এগোচ্ছিলেন। সেই সময় আলোচনায় যোগ দেন শি জিনপিংও। তিন নেতার সেই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে দেখা যায়, মোদী হাত দিয়ে ইঙ্গিত করছেন কিছু বোঝাতে, জিনপিং হাসিমুখে শুনছেন, আর পুতিনের দৃষ্টি অন্য দিকে হলেও মুখে হাসি। এই ছবির পাশাপাশি মোদী আরও একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে তিন নেতাকে পাশাপাশি হাঁটতে দেখা যাচ্ছে। ছবির ক্যাপশনে মোদী লিখেছেন, “তিয়ানজিনে প্রাণবন্ত আলাপচারিতা চলছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন ও প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে ভাবের আদানপ্রদান।”
এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে এই বন্ধুত্বপূর্ণ আড্ডাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। কারণ, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারত, রাশিয়া এবং চিন—এই তিন দেশই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে এই তিন দেশের ঘনিষ্ঠতা বিশেষ নজর কাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্তের ফলেই এই শুল্ক আরোপ। যদিও চিনের বিরুদ্ধে এখনও কোনও বাড়তি শুল্ক ঘোষণা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ত্রিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন মোদী। জানা গেছে, পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা হবে প্রধান আলোচ্য বিষয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসসিও সম্মেলনের মঞ্চে এই তিন নেতার ঘনিষ্ঠতার বার্তা শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক অক্ষ তৈরির ইঙ্গিত।
এসসিও সম্মেলনের পর সোমবারই পুতিনের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসবেন মোদী। সেখানেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, শক্তি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি আলোচিত হবে। বৈঠক শেষে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
এই ঘটনাকে অনেকেই দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্ব রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছেন। পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়ার প্রেক্ষাপটে ভারত, রাশিয়া এবং চিনের ক্রমবর্ধমান সখ্য নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এই তিন দেশের সম্মিলিত অবস্থান বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের।
তিয়ানজিনে হাসিমুখে তিন নেতার পাশাপাশি হাঁটার দৃশ্য তাই শুধু একটি ছবি নয়, বরং ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্তের প্রতীক।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ