মহারাক্ষুসে কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা!
বিজ্ঞানীরাই বলছেন—এটি হতে পারে এ যাবৎ পাওয়া সবচেয়ে বড় ব্ল্যাক হোল। এর ভর এতটাই বিশাল যে, প্রায় ৩৬৩০ কোটি সূর্যের সমান! এই অতিকায় কৃষ্ণগহ্বরের অবস্থান আমাদের নক্ষত্রমণ্ডল থেকে প্রায় ৫০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে, এক গ্যালাক্সির কেন্দ্রে, যার নাম SDSS J1148+1930।
আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কি ওয়ের মাঝখানে রয়েছে একটি সুপরিচিত ব্ল্যাক হোল, যার ভর প্রায় ৪৩ লক্ষ সূর্যের সমান। কিন্তু সদ্য আবিষ্কৃত এই ব্ল্যাক হোলটি তার চেয়ে প্রায় আট হাজার গুণ বড়! এত বড় ভরবিশিষ্ট কোনও কৃষ্ণগহ্বর এর আগে দেখা যায়নি।
এই কৃষ্ণগহ্বরটি খুঁজে পেয়েছেন জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ এক গবেষক দল। তাঁরা বলেন, এটি এমন এক মহাকর্ষীয় দৈত্য, যে আশপাশের সবকিছু—গ্যাস, ধূলিকণা, এমনকি পূর্ণ নক্ষত্র—সবই গিলে ফেলে। আলোও তার টান থেকে পালাতে পারে না। তাই এর নাম ‘ব্ল্যাক হোল’ বা বাংলায় ‘অন্ধকূপ’।
বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং একসময় বলেছিলেন, ব্ল্যাক হোল একবার যেটি গিলে ফেলে, সেটিকে আর ফেরানো যায় না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ভর বাড়তে থাকে, কখনো কমে না। এই নতুন ব্ল্যাক হোলটি ঠিক সেই ভাবেই, সম্ভবত ব্রহ্মাণ্ডের জন্মলগ্ন থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে আজ এই বিশাল রূপ নিয়েছে।
গবেষকদের ধারণা, আমাদের মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩৮০ কোটি বছর। যদি সেই সময়েই এই ব্ল্যাক হোলটির জন্ম হয়ে থাকে, তবে এত দিনে তার ক্ষমতা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। তবুও, এই বিপুল ভরের জন্যই এটি এখনো পর্যন্ত পাওয়া সবথেকে বড় ব্ল্যাক হোলগুলির তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হল—এত দূরের একটি ব্ল্যাক হোলের সন্ধান কীভাবে মিলল?
এর জন্য বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেছেন এক অভিনব পদ্ধতি—গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং। সাধারণভাবে আলো চলে সরলরেখায়। কিন্তু যখন কোনও বিশাল ভরের বস্তু আলোকে ঘিরে থাকে, তখন তার অভিকর্ষ বলের কারণে সেই আলো বাঁক নেয়। বিজ্ঞানীরা সেই বাঁকা আলো বিশ্লেষণ করেই বুঝতে পারেন, সেখানে কোনও অদৃশ্য এবং ভরবহুল বস্তু—অর্থাৎ ব্ল্যাক হোল—অবস্থান করছে।
এই ব্ল্যাক হোলের অবস্থান বিশ্লেষণ করতে গিয়ে গবেষকরা লক্ষ করেন, আলো বাঁক নিয়ে একটি ঘোড়ার খুর বা “কসমিক হর্সশু” আকৃতি তৈরি করছে। এটিই ইঙ্গিত দেয় যে, মাঝখানে একটি ভয়ঙ্কর ভরসম্পন্ন বস্তু রয়েছে—যেটি আর কিছু নয়, এক অতিগম্ভীর কৃষ্ণগহ্বর।
বিজ্ঞানীরা এই আবিষ্কারে উচ্ছ্বসিত। কারণ এটি শুধু ব্ল্যাক হোল সম্বন্ধে নতুন জ্ঞানই দেয় না, একইসঙ্গে মহাবিশ্বের ইতিহাস ও বিবর্তনের দিকেও নতুন দিশা দেখায়।
এই বিশাল আকারের ব্ল্যাক হোল যদি কোনওদিন আমাদের গ্যালাক্সির ধারে-কাছে আসে, তবে তার অভিকর্ষের টানে সব কিছু গিলে নিতে পারে। তবে আপাতত ভয়ের কিছু নেই—কারণ এই মহারাক্ষুসে বস্তুটি রয়েছে ৫০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে!
তবুও, এই আবিষ্কার বুঝিয়ে দিল—মহাবিশ্ব এখনও অনেক রহস্য লুকিয়ে রেখেছে, আর সেই রহস্য খোলার চাবিকাঠি বিজ্ঞানীদের হাতেই।
কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?